ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাস হত্যার ঘটনায় মরদেহ গাছে ঝুলানো সেই যুবক গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় ১২:১৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম নিবির ইসলাম অনিক (২০)। তিনি ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা গ্রামের কালিমুল্লাহর ছেলে এবং পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার নিটিং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার চেরাগআলী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থিরচিত্রে সাদা শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তিকে দীপু চন্দ্র দাসের মরদেহ গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে টানতে দেখা যায়। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারী দল ওই ব্যক্তিকে নিবির ইসলাম অনিক হিসেবে শনাক্ত করে। ঘটনার পর থেকেই তিনি নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁকে ধরতে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিবিরকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে রিমান্ড শুনানির দিন এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনকে তিন দিন করে এবং বাকি ছয়জনকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১২ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে কারখানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় সড়ক বিভাজকের একটি গাছে তাঁর মরদেহ ঝুলিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
নিহত দীপু চন্দ্র দাস তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। এ ঘটনায় তাঁর ভাই অপু চন্দ্র দাস গত শুক্রবার অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।





















