সম্পত্তির লোভে রক্তের সম্পর্কের নৃশংস পরিণতি: বগুড়ায় দুই ভাতিজার হাতে চাচা খুন
- আপডেট সময় ০৫:৫৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ধান ব্যবসায়ী হামিদুল মন্ডল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, চাচার বিপুল সম্পত্তি নিজেদের দখলে রাখতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে তারই দুই ভাতিজা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে সন্দেহভাজন হিসেবে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে তারা। পরে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তাদের বগুড়ার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নিহত হামিদুল মন্ডলের ভাই ফেরদৌস আলীর ছেলে রাকিবুল হাসান ওরফে সিয়াম (১৬) এবং অপর ভাই গোলাম মোস্তফার ছেলে আতিক হাসান (২১)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জামালপুর সড়কের পাশে একটি জমি থেকে হামিদুল মন্ডলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জমিটি নিহতের নিজস্ব ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. রাফিয়া বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রশি এবং লাশ স্থানান্তরে ব্যবহৃত একটি মই উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তে জানা যায়, হামিদুল মন্ডল তিনটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম দুই স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে তৃতীয় স্ত্রী রাফিয়া খাতুন অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় নিহতের প্রায় ১০ বিঘা জমির সম্পত্তিতে ভাগ বসতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই ভাতিজারা চাচাকে হত্যার নীলনকশা আঁকে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তারা হামিদুল মন্ডলকে বাড়ির পেছনে ডেকে নেয়। সেখানে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মইয়ের ওপর করে মরদেহটি পাশের জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহিম আলী জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। নিহতের জানাজা শেষে এক ভাতিজার অস্বাভাবিক আচরণ ও শরীর কাঁপতে থাকার বিষয়টি পুলিশের সন্দেহ জাগায়।
তিনি বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, সম্পত্তির লোভ মানুষকে কতটা নিষ্ঠুর করে তুলতে পারে—এই ঘটনা তারই ভয়াবহ উদাহরণ।




















