১১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

খুলনায় আ.লীগ কার্যালয়ে বিকেলে স্লোগান, রাতে আগুন-ভাঙচুর

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ১১:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রায় দেড় বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিনদিনের মাথায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধরা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে সেখানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে লোয়ার যশোর রোড সংলগ্ন কার্যালয়ে প্রবেশ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

ঘটনা জানাজানি হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১০-১২ জন নেতাকর্মী নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক সংলগ্ন (শঙ্খ মার্কেট) মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে যান। এ সময় তারা নিচতলার প্রধান ফটকের তালা খুলে দোতলায় ওঠেন। সেখানে তারা প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং পরে শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধরা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।

এদিকে বিকেলে কার্যালয়ে প্রবেশের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। আমরা নতুন সরকারকে বলতে চাই, আমরা সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে চাই। আশা করি, আমাদের রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পাব।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবীর হোসেন বলেন, বিকেলে হঠাৎ করে ১০-১২ জন আওয়ামী লীগ অফিস খুলেছিল। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগ অফিস খোলার প্রতিবাদে ‘রেড জুলাই’ নামের ৭-৮ জন ছাত্র আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিভে যায়।

নগরীর টুটপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগ অফিসে সামান্য আগুন দেওয়া হয়েছিল। আমরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে নিভিয়ে ফেলেছি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা অগ্নিসংযোগ করে। এরপর থেকে কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। সর্বশেষ রোববার বিকেল ৪টার দিকে কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খুলনায় আ.লীগ কার্যালয়ে বিকেলে স্লোগান, রাতে আগুন-ভাঙচুর

আপডেট সময় ১১:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রায় দেড় বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিনদিনের মাথায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধরা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে সেখানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে লোয়ার যশোর রোড সংলগ্ন কার্যালয়ে প্রবেশ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

ঘটনা জানাজানি হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১০-১২ জন নেতাকর্মী নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক সংলগ্ন (শঙ্খ মার্কেট) মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে যান। এ সময় তারা নিচতলার প্রধান ফটকের তালা খুলে দোতলায় ওঠেন। সেখানে তারা প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং পরে শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধরা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।

এদিকে বিকেলে কার্যালয়ে প্রবেশের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। আমরা নতুন সরকারকে বলতে চাই, আমরা সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে চাই। আশা করি, আমাদের রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পাব।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবীর হোসেন বলেন, বিকেলে হঠাৎ করে ১০-১২ জন আওয়ামী লীগ অফিস খুলেছিল। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগ অফিস খোলার প্রতিবাদে ‘রেড জুলাই’ নামের ৭-৮ জন ছাত্র আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিভে যায়।

নগরীর টুটপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগ অফিসে সামান্য আগুন দেওয়া হয়েছিল। আমরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে নিভিয়ে ফেলেছি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা অগ্নিসংযোগ করে। এরপর থেকে কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। সর্বশেষ রোববার বিকেল ৪টার দিকে কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।