০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিস নিয়ে হট্টগোল; বরযাত্রীদের মারধরের অভিযোগ

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ০১:৩৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

Screenshot

বগুড়ার সদর উপজেলার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গেটের বকশিসেরর টাকা নিয়ে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। বর পক্ষের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় তাদের কয়েকজনকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং ১৫টি মোবাইল ফোন, একটি স্বর্ণের চেইনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তবে কনে পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, বরং বরযাত্রীরাই প্রথমে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের তিলেরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ফেলুরপাড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে সাগর মিয়ার সঙ্গে তিলেরপাড়া গ্রামের টুটুল মিয়ার মেয়ে সাথী আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়। নির্ধারিত সময়ে বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছালে গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বর পক্ষের দাবি, গেটের বকশিশ নিয়ে বিরোধের জেরে কনে পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে নারী-পুরুষসহ কয়েকজন মারধরের শিকার হন। হামলার সময় প্রায় ১৫টি মোবাইল ফোন, একটি স্বর্ণের চেইনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া তাদের এক স্বজনকে কিছু সময় ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলেও অভিযোগ করা হয়।

বরের চাচাতো বোন জাকিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, আনন্দের সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলেও কনে পক্ষের লোকজন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, নারীদের মারধর করে এবং কয়েকজনকে জোর করে পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

বরের মামি মাহমুদা বেগম বলেন, গেটের বকশিশ হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হলেও তারা ৫০০ টাকা দিতে চান। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিয়ে না করেই ফিরে যেতে চাইলে তাদের পথরোধ করে মারধর করা হয় এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে কনে পক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, বরং বরযাত্রীরাই প্রথমে হামলা চালিয়ে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছে। তারা হামলা বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

বিয়ের ঘটক শামসুল হক জানান, বিয়ের আগে পোশাক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও বিয়ের দিন বর পক্ষ অতিরিক্ত শেরওয়ানির দাবি তোলে। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে শেরওয়ানি, মুকুট ও জুতা কিনে এনে বিষয়টি মীমাংসা করেন। গেটের বকশিশ নিয়েও আলোচনা করে ৭০০ টাকায় সমাধান করা হলেও পরে কনের শারীরিক প্রতিবন্ধী দাদাকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলেইমান আলী বলেন, গেটের বকশিশের টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথাকাটাকাটি, পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বর পক্ষ বিয়ে না করেই চলে যেতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন ও কনে পক্ষের সদস্যরা তাদের বাধা দেন। পরে বর পক্ষের কয়েকজনকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিস নিয়ে হট্টগোল; বরযাত্রীদের মারধরের অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৩৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ার সদর উপজেলার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গেটের বকশিসেরর টাকা নিয়ে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। বর পক্ষের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় তাদের কয়েকজনকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং ১৫টি মোবাইল ফোন, একটি স্বর্ণের চেইনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তবে কনে পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, বরং বরযাত্রীরাই প্রথমে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের তিলেরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ফেলুরপাড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে সাগর মিয়ার সঙ্গে তিলেরপাড়া গ্রামের টুটুল মিয়ার মেয়ে সাথী আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়। নির্ধারিত সময়ে বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছালে গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বর পক্ষের দাবি, গেটের বকশিশ নিয়ে বিরোধের জেরে কনে পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে নারী-পুরুষসহ কয়েকজন মারধরের শিকার হন। হামলার সময় প্রায় ১৫টি মোবাইল ফোন, একটি স্বর্ণের চেইনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া তাদের এক স্বজনকে কিছু সময় ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলেও অভিযোগ করা হয়।

বরের চাচাতো বোন জাকিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, আনন্দের সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলেও কনে পক্ষের লোকজন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, নারীদের মারধর করে এবং কয়েকজনকে জোর করে পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

বরের মামি মাহমুদা বেগম বলেন, গেটের বকশিশ হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হলেও তারা ৫০০ টাকা দিতে চান। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিয়ে না করেই ফিরে যেতে চাইলে তাদের পথরোধ করে মারধর করা হয় এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে কনে পক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, বরং বরযাত্রীরাই প্রথমে হামলা চালিয়ে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছে। তারা হামলা বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

বিয়ের ঘটক শামসুল হক জানান, বিয়ের আগে পোশাক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও বিয়ের দিন বর পক্ষ অতিরিক্ত শেরওয়ানির দাবি তোলে। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে শেরওয়ানি, মুকুট ও জুতা কিনে এনে বিষয়টি মীমাংসা করেন। গেটের বকশিশ নিয়েও আলোচনা করে ৭০০ টাকায় সমাধান করা হলেও পরে কনের শারীরিক প্রতিবন্ধী দাদাকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলেইমান আলী বলেন, গেটের বকশিশের টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথাকাটাকাটি, পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বর পক্ষ বিয়ে না করেই চলে যেতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন ও কনে পক্ষের সদস্যরা তাদের বাধা দেন। পরে বর পক্ষের কয়েকজনকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।