১০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

বগুড়ায় অপহরণ-চাঁদাবাজী মামলায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মী কারাগারে

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ০৮:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

বগুড়ায় কৌশলে ডেকে নিয়ে এক এলজিইডি কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মারধর ও আপত্তিকর ছবি তুলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

কফি খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে অপহরণ, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বগুড়ায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর থানার এফআইআর নং-৫৪, তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জিআর নং-১৩৩/২৬, ধারা ৩৪১/৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৪৬৭/৫০৬ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন গাবতলী উপজেলার মহিষাবান সরকারপাড়া গ্রামের মৃতঃ বাছেদ সরকার এর ছেলে মাহমুদুল হাসান ওরফে মোহন (৩১), ক্ষিদ্রপেড়ী এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে মেহেদী হাসান (১৯), তরফসরতাজ এলাকার গোলাম রব্বানীর ছেলে রবিউল ইসলাম রকি (২১) ও দাঁড়াইল এলাকার ছালেকের ছেলে আশেকুল ইসলাম (১৯)। গ্রেফতার হওয়া ৪জন আসামীই জেলার গাবতলী উপজেলার।

গ্রেফতার হওয়া ১নং আসামী মাহমুদুল হাসান ওরফে মোহন (৩১), গাবতলী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও আরও ৩ আসামীর প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ১৯শে ফেব্রুয়ারি বিকাল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে বগুড়া সদর থানাধীন রানার প্লাজার সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসানের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা (১ হাজার টাকার ১৪টি নোট ও ৫০০ টাকার ১২টি নোট), সোনালী ব্যাংক শিবগঞ্জ শাখার একটি চেক (নং-৩৪৯৯৭২৩) যাতে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ ছিল, উদ্ধার করা হয়। অপর আসামি মেহেদী হাসানের কাছ থেকে ৩০০ টাকার ৩টি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প ও একটি মোবাইল ফোন (সিম নং-০১৭৪২-৬১১৪৭৩) জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদী এলজিইডি বগুড়া সদর কার্যালয়ে কার্য সহকারী হিসেবে কর্মরত। কিছুদিন পূর্বে মোছাঃ শাহানাজ পারভিন নামের এক নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার পরিচয় হয়। ওই নারী নিজেকে এলজিইডি ঢাকা অফিসে আউটসোর্সিং কর্মী পরিচয় দিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জলেশ্বরীতলা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে কফির আমন্ত্রণ জানান। সেখানে গেলে লিফটের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি বাদীর পথরোধ করে তাকে জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, সেখানে তাকে মারধর করে ওই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে বিয়ের ভয় দেখানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে বাদীর কাছ থেকে নগদ টাকা আদায় করা হয়। পরে তাকে একটি ব্যাংক চেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লিখে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় এবং ৩০০ টাকার ব্ল্যাংক নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর নেওয়া হয়। বাকি টাকা পরিশোধ না করলে মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) এস এম মোহাম্মদ আলী বলেন, “এ পর্যন্ত ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও একজন জড়িত রয়েছে, তাকেও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।”

গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বগুড়ায় অপহরণ-চাঁদাবাজী মামলায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মী কারাগারে

আপডেট সময় ০৮:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

বগুড়ায় কৌশলে ডেকে নিয়ে এক এলজিইডি কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মারধর ও আপত্তিকর ছবি তুলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

কফি খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে অপহরণ, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বগুড়ায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর থানার এফআইআর নং-৫৪, তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জিআর নং-১৩৩/২৬, ধারা ৩৪১/৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৪৬৭/৫০৬ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন গাবতলী উপজেলার মহিষাবান সরকারপাড়া গ্রামের মৃতঃ বাছেদ সরকার এর ছেলে মাহমুদুল হাসান ওরফে মোহন (৩১), ক্ষিদ্রপেড়ী এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে মেহেদী হাসান (১৯), তরফসরতাজ এলাকার গোলাম রব্বানীর ছেলে রবিউল ইসলাম রকি (২১) ও দাঁড়াইল এলাকার ছালেকের ছেলে আশেকুল ইসলাম (১৯)। গ্রেফতার হওয়া ৪জন আসামীই জেলার গাবতলী উপজেলার।

গ্রেফতার হওয়া ১নং আসামী মাহমুদুল হাসান ওরফে মোহন (৩১), গাবতলী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও আরও ৩ আসামীর প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ১৯শে ফেব্রুয়ারি বিকাল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে বগুড়া সদর থানাধীন রানার প্লাজার সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসানের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা (১ হাজার টাকার ১৪টি নোট ও ৫০০ টাকার ১২টি নোট), সোনালী ব্যাংক শিবগঞ্জ শাখার একটি চেক (নং-৩৪৯৯৭২৩) যাতে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ ছিল, উদ্ধার করা হয়। অপর আসামি মেহেদী হাসানের কাছ থেকে ৩০০ টাকার ৩টি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প ও একটি মোবাইল ফোন (সিম নং-০১৭৪২-৬১১৪৭৩) জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদী এলজিইডি বগুড়া সদর কার্যালয়ে কার্য সহকারী হিসেবে কর্মরত। কিছুদিন পূর্বে মোছাঃ শাহানাজ পারভিন নামের এক নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার পরিচয় হয়। ওই নারী নিজেকে এলজিইডি ঢাকা অফিসে আউটসোর্সিং কর্মী পরিচয় দিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জলেশ্বরীতলা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে কফির আমন্ত্রণ জানান। সেখানে গেলে লিফটের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি বাদীর পথরোধ করে তাকে জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, সেখানে তাকে মারধর করে ওই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে বিয়ের ভয় দেখানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে বাদীর কাছ থেকে নগদ টাকা আদায় করা হয়। পরে তাকে একটি ব্যাংক চেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লিখে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় এবং ৩০০ টাকার ব্ল্যাংক নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর নেওয়া হয়। বাকি টাকা পরিশোধ না করলে মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) এস এম মোহাম্মদ আলী বলেন, “এ পর্যন্ত ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও একজন জড়িত রয়েছে, তাকেও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।”

গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।