সাজিদের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল, চোখের পানিতে চিরবিদায়
- আপডেট সময় ১০:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
হাজারো মানুষ অশ্রুসিক্ত চোখে চিরবিদায় জানিয়েছেন দুই বছরের সাজিদকে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহীর তানোরের কোয়েলহাট গ্রামে সাজিদের জানাজা হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। এরপর গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
সাজিদের বাবা রাকিবুল বলেন, ‘আর কোন বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। আমি বিচার চাই– যেন দেশের আর কোনো পরিবার এভাবে সন্তান না হারায়। ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।’ তবে এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।ত বুধবার দুপুরে মায়ের সঙ্গে হাটতে গিয়ে গভীর নলকূপের পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে যায় সাজিদ। পরে ফায়ার সার্ভিস শুরু করে উদ্ধার অভিযান। পাশেই আলাদা গর্ত করে ৪৫ ফুট নিচ থেকে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৭ মিনিটে সাজিদকে অচেতন উদ্ধার করা হয়। এ সময় দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জানান, আগেই সাজিদের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে। পুরো দেশবাসী সাজিদকে জীবিত উদ্ধারের জন্য উদ্বিগ্ন হন, দোয়া করেন। এ অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস ৩২ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন চেষ্টায় মাটিতে মাখামাখি অবস্থায় নিথর সাজিদকে তুলে আনা হয়।আজ সকালে সাজিদকে এক নজর দেখতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন কোয়েল গ্রামে। প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল মা রুনা খাতুন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কান্নার পর তিনি ক্লান্ত। নাওয়া খাওয়া বন্ধ রেখেছেন। কথা বলার শক্তিও ছিল না। চারপাশে শোকাহত আত্মীয়রা একজন আরেকজনকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। সবার চোখেই পানি।

জানাজাস্থলের পাশে বাড়ির উঠানে ভাঙা গলায় রুনা খাতুন বলেন, ‘আমার সাজিদ ছিল চঞ্চল ছিল। সবকিছুতে ওর আগ্রহ ছিল। এটুকু বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।’
![]()

সাজিদের বাবা রাকিবুল গাজীপুরে একটি গুদামে কাজ করেন। স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে থাকলেও তিনি সেখানেই থাকেন।
তানোর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আব্দুর রউফ বলেন, ‘শিশুটিকে ৪৫ ফুট গভীরে পাওয়া যায়। সম্ভবত অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয়েছে। আমরা যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা উদ্ধারচেষ্টা চালান। এতে ওপরের মাটি ধসে গর্ত অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমরা যে অক্সিজেন সরবরাহ করছিলাম, তা তার কাছে পৌঁছাতে পারেনি।’ তিনি জানান, উদ্ধারের পর সাজিদকে অ্যাম্বুলেন্সে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তানোর থানার ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ কেউ করেনি। পুলিশ নিজ উদ্যেগে মামলা করবে না। এটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করতে পারে। থানায় শুধু একটা ইউডি মামলা হয়েছে। পুলিশ কছির উদ্দীনকে খুঁজছে। তিনি পলাতক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন, পুলিশ বা ভুক্তভোগীর পরিবার চাইলে মামলা করতে পারেন। এখানে ইউএনও কিছু করতে পারেন না।
























