ইরানের হামলায় বাংলাদেশির মৃত্যু, চার মাস আগে শেষবার দেশে এসেছিলেন সালেহ
- আপডেট সময় ০৫:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সালেহ আহমদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলার ঘটনায় মারা গেছেন। তিনি ৩৫ বছর ধরে দুবাইয়ে বসবাস করছিলেন। তবে প্রবাসে তার নাম ছিল আহমদ আলী। গত বছর শেষবারের মতো দেশের মাটিতে ঘুরতে এসেছিলেন। চার মাস আগে আবার দুবাইয়ে ফিরে যান তিনি। তার আর কখনোই জীবিত অবস্থায় দেশে ফেরা হবে না। গত শনিবার রাতে দুবাইয়ের আজমান শহরে ইরানের বোমা হামলার ঘটনায় সালেহ আহমদ নিহত হন।
সালেহ আহমদের বাড়ি বড়লেখার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার ইফতারের পর কোনো এক সময় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তার গাড়িতে আঘাত করলে তিনি মারা যান। দুবাইয়ের আজমান শহরে তিনি পানির ট্যাংকার চালাতেন। হামলার সময় পানি সরবরাহের জন্য গাড়ি নিয়ে পথে বের হয়েছিলেন। ওই শহরে তার ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও থাকেন। তারাই সালেহ আহমদের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান।
নিহতের ছোট ভাই জাকির হোসেনের স্ত্রী শেলি বেগম রোববার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত বছর তার ভাশুর দেশে এসেছিলেন। প্রায় চার মাস আগে দুবাই ফিরে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সবশেষ দেশে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরের দিন শনিবার রাতে তারা তার মৃত্যুসংবাদ পান। সালেহ আহমদের স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে আছেন। তারা সবাই দেশে থাকেন।’
শেলি বেগম বলেন, ‘শনিবার রাত ১০টার দিকে প্রথম তারা খবর পান যে সালেহ আহমদ বোমা হামলায় মারা গেছেন। কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। আজমান শহরে থাকা সালেহর দুই ভাই সেখানকার হাসপাতালে যান। তবে তারা ভাইকে দেখার সুযোগ পাননি।’
দুই ভাই পরিবারের সদস্যদের জানান, গাড়িতে বোমা হামলার পরপরই দুবাইয়ের সেনাবাহিনীর সদস্যরা সালেহকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তারা কফিলের (দুবাইয়ে স্থানীয় চাকরিদাতা) মাধ্যমে সালেহ আহমদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন। তার মরদেহ হাসপাতালে রাখা আছে।
শেলি বেগম বলেন, ‘ঘটনার আগে সালেহ আহমদ ভাইদের মুঠোফোনে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে বলেছিলেন, রাত ১০টার দিকে তাদের সঙ্গে আলাপ করবেন। কিন্তু তার আগেই বোমা হামলায় তিনি মারা যান।’
বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘পুলিশ সালেহ আহমদের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিবারের সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।’
















