০৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

বগুড়ায় কিলোওয়াট বাড়ানোর জন্য ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উপ-সহকারী মিরাজ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে

ডিবিএন প্রতিবেদক

  • আপডেট সময় ১২:১৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৬০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়া শহরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটারের লোড বাড়াতে গিয়ে সরকারি খরচের দ্বিগুন টাকা বখশিস গুনতে হয়েছে এক গ্রাহককে। বগুড়া নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো) বিতরণ বিভাগ-১ কার্যালয়ের মিরাজ বিশ্বাস নামে এক উপ সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এই ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

গ্রাহকের দাবি, তার ব্যবহৃত মিটারের লোড বাড়ানোর জন্য সরকারি খরচ হিসেবে নেয়া হয় ১০০০ টাকা। আর কাজটি করে দেয়ার জন্য এই কর্মকর্তা নেন ২০০০ টাকা। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ওই কর্মকর্তাকে অন্য এলাকায় সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকের নাম মেহেদী হাসান। তিনি বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার রোমেনা আফাজ সড়কের বাসিন্দা এবং পেশায় প্রকৌশলী।

মেহেদী হাসানের কাছে জানা যায়, জলেশ্বরীতলায় বসবাসের পাশাপাশি তার স্ত্রী একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করে থাকেন। এই পার্লারের জন্য বৈদ্যুতিক মিটারের লোড ছিল ৮ কিলোওয়াট। মিটারে লোড বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিলে চলতি বছরের গত ৬ অক্টোবর নেসকো বিতরণ বিভাগ-১ কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করেন তিনি। কিন্তু এই ঘটনার প্রায় ২ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো কাজ হয়নি।

পরে আবার যোগাযোগ করলে জলেশ্বরীতলা ফিডারের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিরাজ বিশ্বাসের কাছে গেলে তিনি বাড়তি খরচের কথা বলেন। উপায় না পেয়ে মেহেদী হাসান বাড়তি টাকা দিতে রাজি হন। সে সময় নেসকোর কর্মকর্তা মিরাজের দাবি অনুযায়ী নিজ বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২০ অক্টোবর দুই দফায় টাকা দেন। টাকা দেয়ার পরের দিন মিটারে আরও ৭ কিলোওয়াট বাড়িয়ে দেন উপসহকারী প্রকৌশলী।

বিকাশে খরচসহ মিটারের লোড বাড়ানোর জন্য ১০২৫ টাকা। এর আগে মিরাজের দাবিকৃত ২০৪০ টাকা পাঠান মেহেদী হাসান। এই টাকা মিরাজ বিশ্বাসের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে পাঠানো হয়। সেটার স্ক্রিনশটও সংগ্রহে রাখা আছে।

মেহেদী হাসান বলেন, এর আগে আবেদন করে আমি টাকা জমা দিতে চেয়েছিলাম। তখন আমাকে বলা হয়েছিল ৫০০-৬০০ টাকা খরচ হতে পারে। এরপর বাড়ি ভিজিটও করে আসে। কিন্তু আর কোনো খবর ছিল না। এরপর ১৫ দিন পেরিয়ে গেলে যখন আবার যাই, তখন বাড়তি খরচ হিসেবে ২০০০ টাকা দেয়ার কথা বলেন। আর সরকারি খরচের কথা বলেন ১০০০ টাকা।

নেসকো বগুড়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যুতিক এসব মিটারে লোড বাড়িয়ে নিতে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০০ টাকা চার্জ দিতে হয়৷ তবে মিটারের ফেজ, কিলোওয়াট অনুযায়ী এই রেট কিছুটা বেশি হতে পারে।

বিস্ময় প্রকাশ করে এই গ্রাহক বলেন, সরকারি খরচ যা হয়, তা দিতে তো আমার আপত্তি নেই। কিন্তু আমাকে অবাক করেছে, সরকারি অফিসে উনি এত খোলামেলাভাবে ঘুষ নিচ্ছেন। তার মধ্যে কোনো ভয়-ডরও নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপ সহকারী প্রকৌশলী মিরাজ বিশ্বাস ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে জলেশ্বরীতলা ফিডার এবং একই ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি এই ঘটনাটি জানার পর তাকে সংশ্লিষ্ট ফিডার থেকে সরিয়ে অন্য এলাকার দায়িত্ব দেয়া হয়।
ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে নেসকো বিতরণ বিভাগ-১ এর উপ সহকারী প্রকৌশলী মিরাজ বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছু জানেন না বলে এড়িয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, আমি এখন জলেশ্বরী তলা এলাকার দায়িত্বে নেই। আমি এখন রহমান নগর এলাকার দায়িত্বে। আমি কোনো টাকা নিইনি। অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে নেসকো বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মন্নাফ জানান, প্রায় ১০-১২ দিন আগে মিরাজ বিশ্বাসকে জলেশ্বরীতলা এলাকার ফিডারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রহমাননগরে দেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, মিটারের লোড বাড়িয়ে নেয়ার ঘটনাটি আমি জানি। ওই গ্রাহক (মেহেদী হাসান) আমার কাছে প্রথমে এসেছিলেন। আমি তাকে আবেদনের প্রক্রিয়া জানিয়ে দিই। এরপর তিনি কার সাথে যোগাযোগ করেছেন, তার সাথে কি লেনদেন করেছেন তা কিন্তু আমাকে জানাননি।

আব্দুল মন্নাফ বলেন, ‘তাকে যদি হয়রানি করা হয়ে থাকে, সেটি আমাকে একবার তো জানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তারপরেও টাকা নেয়ার খবরটি আমার কাছে আসামাত্র আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। তাকে ওই এলাকার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বগুড়ায় কিলোওয়াট বাড়ানোর জন্য ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উপ-সহকারী মিরাজ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ১২:১৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়া শহরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটারের লোড বাড়াতে গিয়ে সরকারি খরচের দ্বিগুন টাকা বখশিস গুনতে হয়েছে এক গ্রাহককে। বগুড়া নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো) বিতরণ বিভাগ-১ কার্যালয়ের মিরাজ বিশ্বাস নামে এক উপ সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এই ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

গ্রাহকের দাবি, তার ব্যবহৃত মিটারের লোড বাড়ানোর জন্য সরকারি খরচ হিসেবে নেয়া হয় ১০০০ টাকা। আর কাজটি করে দেয়ার জন্য এই কর্মকর্তা নেন ২০০০ টাকা। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ওই কর্মকর্তাকে অন্য এলাকায় সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকের নাম মেহেদী হাসান। তিনি বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার রোমেনা আফাজ সড়কের বাসিন্দা এবং পেশায় প্রকৌশলী।

মেহেদী হাসানের কাছে জানা যায়, জলেশ্বরীতলায় বসবাসের পাশাপাশি তার স্ত্রী একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করে থাকেন। এই পার্লারের জন্য বৈদ্যুতিক মিটারের লোড ছিল ৮ কিলোওয়াট। মিটারে লোড বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিলে চলতি বছরের গত ৬ অক্টোবর নেসকো বিতরণ বিভাগ-১ কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করেন তিনি। কিন্তু এই ঘটনার প্রায় ২ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো কাজ হয়নি।

পরে আবার যোগাযোগ করলে জলেশ্বরীতলা ফিডারের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিরাজ বিশ্বাসের কাছে গেলে তিনি বাড়তি খরচের কথা বলেন। উপায় না পেয়ে মেহেদী হাসান বাড়তি টাকা দিতে রাজি হন। সে সময় নেসকোর কর্মকর্তা মিরাজের দাবি অনুযায়ী নিজ বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২০ অক্টোবর দুই দফায় টাকা দেন। টাকা দেয়ার পরের দিন মিটারে আরও ৭ কিলোওয়াট বাড়িয়ে দেন উপসহকারী প্রকৌশলী।

বিকাশে খরচসহ মিটারের লোড বাড়ানোর জন্য ১০২৫ টাকা। এর আগে মিরাজের দাবিকৃত ২০৪০ টাকা পাঠান মেহেদী হাসান। এই টাকা মিরাজ বিশ্বাসের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে পাঠানো হয়। সেটার স্ক্রিনশটও সংগ্রহে রাখা আছে।

মেহেদী হাসান বলেন, এর আগে আবেদন করে আমি টাকা জমা দিতে চেয়েছিলাম। তখন আমাকে বলা হয়েছিল ৫০০-৬০০ টাকা খরচ হতে পারে। এরপর বাড়ি ভিজিটও করে আসে। কিন্তু আর কোনো খবর ছিল না। এরপর ১৫ দিন পেরিয়ে গেলে যখন আবার যাই, তখন বাড়তি খরচ হিসেবে ২০০০ টাকা দেয়ার কথা বলেন। আর সরকারি খরচের কথা বলেন ১০০০ টাকা।

নেসকো বগুড়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যুতিক এসব মিটারে লোড বাড়িয়ে নিতে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০০ টাকা চার্জ দিতে হয়৷ তবে মিটারের ফেজ, কিলোওয়াট অনুযায়ী এই রেট কিছুটা বেশি হতে পারে।

বিস্ময় প্রকাশ করে এই গ্রাহক বলেন, সরকারি খরচ যা হয়, তা দিতে তো আমার আপত্তি নেই। কিন্তু আমাকে অবাক করেছে, সরকারি অফিসে উনি এত খোলামেলাভাবে ঘুষ নিচ্ছেন। তার মধ্যে কোনো ভয়-ডরও নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপ সহকারী প্রকৌশলী মিরাজ বিশ্বাস ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে জলেশ্বরীতলা ফিডার এবং একই ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি এই ঘটনাটি জানার পর তাকে সংশ্লিষ্ট ফিডার থেকে সরিয়ে অন্য এলাকার দায়িত্ব দেয়া হয়।
ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে নেসকো বিতরণ বিভাগ-১ এর উপ সহকারী প্রকৌশলী মিরাজ বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছু জানেন না বলে এড়িয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, আমি এখন জলেশ্বরী তলা এলাকার দায়িত্বে নেই। আমি এখন রহমান নগর এলাকার দায়িত্বে। আমি কোনো টাকা নিইনি। অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে নেসকো বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মন্নাফ জানান, প্রায় ১০-১২ দিন আগে মিরাজ বিশ্বাসকে জলেশ্বরীতলা এলাকার ফিডারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রহমাননগরে দেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, মিটারের লোড বাড়িয়ে নেয়ার ঘটনাটি আমি জানি। ওই গ্রাহক (মেহেদী হাসান) আমার কাছে প্রথমে এসেছিলেন। আমি তাকে আবেদনের প্রক্রিয়া জানিয়ে দিই। এরপর তিনি কার সাথে যোগাযোগ করেছেন, তার সাথে কি লেনদেন করেছেন তা কিন্তু আমাকে জানাননি।

আব্দুল মন্নাফ বলেন, ‘তাকে যদি হয়রানি করা হয়ে থাকে, সেটি আমাকে একবার তো জানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তারপরেও টাকা নেয়ার খবরটি আমার কাছে আসামাত্র আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। তাকে ওই এলাকার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’