০৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা: ৩ বাংলাদেশিকে হত্যার পর লাশ ফেলা হয় সাগরে

ডিবিএন প্রতিবেদক

  • আপডেট সময় ০৫:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩৬ বার পড়া হয়েছে

লিবিয়ায় নিহত ৩ বাংলাদেশি যুবক। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট

লিবিয়ায় তিন বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় গুলি করলে প্রাণ হারান মাদারীপুরের ইমরান, মুন্না ও বায়েজিত নামে তিন যুবক। তাদের মৃত্যুর খবরে দেশে থাকা পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় মানুষ ও নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, পারিবারিক আর্থিক অবস্থার উন্নতি ও ভালো জীবনের আশায় অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৮ অক্টোবর বাড়ি ছাড়েন মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের আদিত্যপুর গ্রামের হাজী মো. তৈয়ব আলী খানের ছেলে ইমরান খান। সরাসরি ইতালি পৌঁছে দেওয়ার শর্তে প্রতিবেশী ও দালাল শিপন খানের সঙ্গে ২২ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। কিন্তু লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে আরও ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়।

সবশেষ ১ নভেম্বর লিবিয়া থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালির উদ্দেশে রওনা হলে ভূমধ্যসাগরে গুলিতে মারা যান ইমরান। তবে তার মৃত্যুর ১৮ দিন পর, ১৯ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে পরিবার বিষয়টি জানতে পারে।

এদিকে একইভাবে গুলিতে ওইদিন মারা যান রাজৈর উপজেলার দুর্গাবর্দ্দী গ্রামের ইমারত তালুকদারের ছেলে মুন্না তালুকদার এবং একই উপজেলার ঘোষলাকান্দি গ্রামের কুদ্দুস শেখের ছেলে বায়েজিত শেখ। তিন যুবকের মরদেহ ভূমধ্যসাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।
এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। ঘটনার পর ঘরে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা দালালের পরিবার। তবে শিপনের স্বজনদের দাবি, এই ঘটনায় শিপন জড়িত নন।
স্থানীয়রা ও নিহতদের পরিবার অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর ধরে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন শিপন। তিনি আত্মীয়–স্বজনদের মাধ্যমে এলাকার যুবকদের খুব সহজে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখান। এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ইমরানের বড় বোন ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘শিপন দালাল আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। এই দালালের কঠিন বিচার চাই। সরকারের কাছে দাবি, আমার ভাইয়ের মরদেহ যেন একবারের জন্য হলেও দেখতে পারি—এই ব্যবস্থা করা হোক।’

ইমরানের আত্মীয় সাজ্জাদ মাতুব্বর বলেন, ‘দালাল শিপনের হাত অনেক লম্বা। এর আগেও একইভাবে কয়েকজন মারা গেছে। টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করে। বিচার না হওয়ায় এই অপরাধ থামছে না। আমরা তার ও সহযোগীদের কঠিন শাস্তি চাই।’

নিহত মুন্নার খালা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘দালাল শিপনকে ধারদেনা করে ৪০ লাখ টাকা দিয়েছি। ভাগিনার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। এই দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি মুন্নার মরদেহ দেশে ফেরানোর দাবি জানাচ্ছি।’
তথ্যসুত্র ইনডিপেনডেন্ট

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা: ৩ বাংলাদেশিকে হত্যার পর লাশ ফেলা হয় সাগরে

আপডেট সময় ০৫:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

লিবিয়ায় তিন বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় গুলি করলে প্রাণ হারান মাদারীপুরের ইমরান, মুন্না ও বায়েজিত নামে তিন যুবক। তাদের মৃত্যুর খবরে দেশে থাকা পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় মানুষ ও নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, পারিবারিক আর্থিক অবস্থার উন্নতি ও ভালো জীবনের আশায় অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৮ অক্টোবর বাড়ি ছাড়েন মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের আদিত্যপুর গ্রামের হাজী মো. তৈয়ব আলী খানের ছেলে ইমরান খান। সরাসরি ইতালি পৌঁছে দেওয়ার শর্তে প্রতিবেশী ও দালাল শিপন খানের সঙ্গে ২২ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। কিন্তু লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে আরও ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়।

সবশেষ ১ নভেম্বর লিবিয়া থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালির উদ্দেশে রওনা হলে ভূমধ্যসাগরে গুলিতে মারা যান ইমরান। তবে তার মৃত্যুর ১৮ দিন পর, ১৯ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে পরিবার বিষয়টি জানতে পারে।

এদিকে একইভাবে গুলিতে ওইদিন মারা যান রাজৈর উপজেলার দুর্গাবর্দ্দী গ্রামের ইমারত তালুকদারের ছেলে মুন্না তালুকদার এবং একই উপজেলার ঘোষলাকান্দি গ্রামের কুদ্দুস শেখের ছেলে বায়েজিত শেখ। তিন যুবকের মরদেহ ভূমধ্যসাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।
এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। ঘটনার পর ঘরে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা দালালের পরিবার। তবে শিপনের স্বজনদের দাবি, এই ঘটনায় শিপন জড়িত নন।
স্থানীয়রা ও নিহতদের পরিবার অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর ধরে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন শিপন। তিনি আত্মীয়–স্বজনদের মাধ্যমে এলাকার যুবকদের খুব সহজে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখান। এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ইমরানের বড় বোন ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘শিপন দালাল আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। এই দালালের কঠিন বিচার চাই। সরকারের কাছে দাবি, আমার ভাইয়ের মরদেহ যেন একবারের জন্য হলেও দেখতে পারি—এই ব্যবস্থা করা হোক।’

ইমরানের আত্মীয় সাজ্জাদ মাতুব্বর বলেন, ‘দালাল শিপনের হাত অনেক লম্বা। এর আগেও একইভাবে কয়েকজন মারা গেছে। টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করে। বিচার না হওয়ায় এই অপরাধ থামছে না। আমরা তার ও সহযোগীদের কঠিন শাস্তি চাই।’

নিহত মুন্নার খালা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘দালাল শিপনকে ধারদেনা করে ৪০ লাখ টাকা দিয়েছি। ভাগিনার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। এই দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি মুন্নার মরদেহ দেশে ফেরানোর দাবি জানাচ্ছি।’
তথ্যসুত্র ইনডিপেনডেন্ট