০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

নারীর ক্ষমতায়নে প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

ডিবিএন প্রতিবেদক

  • আপডেট সময় ০৯:২০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩৬ বার পড়া হয়েছে

ডিজিটাল প্রযুক্তি বিশ্বকে বদলে দিয়েছে, আর সেই পরিবর্তনের ধারায় নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চাহিদা এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজের ৬১তম জন্মদিন উপলক্ষে (২০ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার তিনি তার নিজের ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি বলেন, প্রযুক্তি আজ ব্যক্তিজীবন থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক প্রভাব ফেলছে, এবং বাংলাদেশও সেই ধারার বাইরে নয়।
তারেক রহমান তার নিজ ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, অনেক সময় আমি ও আমার স্ত্রীসহ ভাবি আমাদের শৈশবের পৃথিবী আর আজ আমাদের মেয়ের সামনে থাকা পৃথিবী কত ভিন্ন। সুযোগ বেড়েছে কিন্তু ঝুঁকিও বহুগুণ। কন্যা, মা, বোন বা সহকর্মী কারওই ভয়ে বেঁচে থাকার কথা নয়।
তারেক রহমান লিখেন, প্রতিদিন অসংখ্য নারী শুধু কথা বলা কাজ করা বা স্বাধীনভাবে চলার চেষ্টা করলেই হয়রানি, হুমকি, বুলিং কিংবা সহিংসতার মুখোমুখি হন। এটি সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ নয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রাপ্যও নয়। তিনি মনে করেন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে অনলাইন থেকে অফলাইন, ঘর থেকে কর্মক্ষেত্র জীবনের প্রতিটি ধাপে।
নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের জন্য বিএনপি যে পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছে, তার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি:

১. জাতীয় অনলাইন সেফটি সিস্টেমঃ
সাইবার বুলিং, হুমকি, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস—এসব অভিযোগ সহজে জানাতে থাকবে জাতীয় স্তরের হটলাইন, অনলাইন পোর্টাল ও প্রশিক্ষিত সাড়া-দাতা দল। বাংলা কনটেন্ট মডারেশন উন্নত করতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অংশীদারত্বও গড়া হবে।

২. জনজীবনে নারীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা প্রোটোকলঃ
সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী বা জননেত্রী যে কেউ তার পেশাগত অংশগ্রহণের কারণে যেন হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য থাকবে গোপনীয় আইনি সহায়তা ও সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা নির্দেশিকা।

৩. ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষাঃ
স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকে ব্যবহারিক সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। তরুণদের সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে চলবে বিশেষ ক্যাম্পেইন।

৪. সহিংসতার বিরুদ্ধে কমিউনিটি প্রতিক্রিয়া জোরদারঃ
কমিউনিটি হেল্প ডেস্ক, নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা, উন্নত আলোকসজ্জা ও দ্রুত সহায়তাকারী টিম গঠন করা হবে, যেন নারীরা প্রতিদিনের চলাচলে নিরাপত্তা পান।

৫. নারীর নেতৃত্বে অংশগ্রহণ বিস্তৃত করাঃ
নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, পরামর্শদাতা নেটওয়ার্ক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস ও শিল্পকারখানায় উন্নত শিশুযত্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে নারীদের নেতৃত্ব ও কর্মক্ষমতা বাড়ানো হবে। তারেক রহমানের ভাষায়, নারী এগোলে জাতি এগিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মত, ধর্মীয় পরিচয় বা লিঙ্গ যাই হোক না কেন, নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে সবাইকে একমত হতে হবে। “নারীরা নিরাপদ থাকলে, তখনই বাংলাদেশ অদম্য হয়ে ওঠে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেই বাস্তবতা গড়তে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নারীর ক্ষমতায়নে প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

আপডেট সময় ০৯:২০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

ডিজিটাল প্রযুক্তি বিশ্বকে বদলে দিয়েছে, আর সেই পরিবর্তনের ধারায় নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চাহিদা এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজের ৬১তম জন্মদিন উপলক্ষে (২০ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার তিনি তার নিজের ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি বলেন, প্রযুক্তি আজ ব্যক্তিজীবন থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক প্রভাব ফেলছে, এবং বাংলাদেশও সেই ধারার বাইরে নয়।
তারেক রহমান তার নিজ ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, অনেক সময় আমি ও আমার স্ত্রীসহ ভাবি আমাদের শৈশবের পৃথিবী আর আজ আমাদের মেয়ের সামনে থাকা পৃথিবী কত ভিন্ন। সুযোগ বেড়েছে কিন্তু ঝুঁকিও বহুগুণ। কন্যা, মা, বোন বা সহকর্মী কারওই ভয়ে বেঁচে থাকার কথা নয়।
তারেক রহমান লিখেন, প্রতিদিন অসংখ্য নারী শুধু কথা বলা কাজ করা বা স্বাধীনভাবে চলার চেষ্টা করলেই হয়রানি, হুমকি, বুলিং কিংবা সহিংসতার মুখোমুখি হন। এটি সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ নয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রাপ্যও নয়। তিনি মনে করেন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে অনলাইন থেকে অফলাইন, ঘর থেকে কর্মক্ষেত্র জীবনের প্রতিটি ধাপে।
নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের জন্য বিএনপি যে পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছে, তার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি:

১. জাতীয় অনলাইন সেফটি সিস্টেমঃ
সাইবার বুলিং, হুমকি, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস—এসব অভিযোগ সহজে জানাতে থাকবে জাতীয় স্তরের হটলাইন, অনলাইন পোর্টাল ও প্রশিক্ষিত সাড়া-দাতা দল। বাংলা কনটেন্ট মডারেশন উন্নত করতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অংশীদারত্বও গড়া হবে।

২. জনজীবনে নারীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা প্রোটোকলঃ
সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী বা জননেত্রী যে কেউ তার পেশাগত অংশগ্রহণের কারণে যেন হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য থাকবে গোপনীয় আইনি সহায়তা ও সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা নির্দেশিকা।

৩. ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষাঃ
স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকে ব্যবহারিক সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। তরুণদের সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে চলবে বিশেষ ক্যাম্পেইন।

৪. সহিংসতার বিরুদ্ধে কমিউনিটি প্রতিক্রিয়া জোরদারঃ
কমিউনিটি হেল্প ডেস্ক, নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা, উন্নত আলোকসজ্জা ও দ্রুত সহায়তাকারী টিম গঠন করা হবে, যেন নারীরা প্রতিদিনের চলাচলে নিরাপত্তা পান।

৫. নারীর নেতৃত্বে অংশগ্রহণ বিস্তৃত করাঃ
নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, পরামর্শদাতা নেটওয়ার্ক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস ও শিল্পকারখানায় উন্নত শিশুযত্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে নারীদের নেতৃত্ব ও কর্মক্ষমতা বাড়ানো হবে। তারেক রহমানের ভাষায়, নারী এগোলে জাতি এগিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মত, ধর্মীয় পরিচয় বা লিঙ্গ যাই হোক না কেন, নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে সবাইকে একমত হতে হবে। “নারীরা নিরাপদ থাকলে, তখনই বাংলাদেশ অদম্য হয়ে ওঠে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেই বাস্তবতা গড়তে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।