০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

ভূমিকম্প: মাংস কিনে বাড়ি ফেরা হলো না বাবা-ছেলের

ডিবিএন প্রতিবেদক

  • আপডেট সময় ০১:০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩০ বার পড়া হয়েছে

বাবা ও ছেলে

ছেলে মেহরাব হোসেন রিমনকে (১২) নিয়ে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বাজার করতে বংশালের কসাইটুলীতে যান হাজি আবদুর রহিম (৪৭)। মাংস কিনে তারা ফিরছিলেন বাসায়। পথে একটি ভবনের রেলিং ভেঙে পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান বাবা-ছেলে। এসব কথা বলেছেন নিহত আবদুর রহিমের ছোট ভাই এবং রিমনের চাচা নাসির উদ্দিন।

জানা গেছে, আব্দুর রহিম রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন। তিনি পুরান ঢাকার সুরিটোলা স্কুলের পেছনে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে বাবা-ছেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়স্বজনরা। তাদের জানাজা হয় আস সুন্নাহ মাদ্রাসা ও মসজিদ কমপ্লেক্স। এতে অংশ নেয় হাজারের বেশি মানুষ। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দুই জনকে দাফন করা হয়।

নিহত আবদুর রহিমের ভাই নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাই আর আমার ভাতিজাকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব। কেন আল্লাহ এমন করলেন, সেটা তিনিই জানেন। আমার ভাই খুব ভালো মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে কখনও খারাপ ব্যবহার করেননি। কেউ বলতে পারবে না তিনি কখনও খারাপ কিছু করেছেন। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।’

তিনি বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ ভাতিজা… সে তো মাত্র ক্লাস সিক্সে পড়ে। এই শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হবে না। রিমনের মাকে কেউ সান্ত্বনা দিতে পারছে না। আমার আরেক ভাতিজা বাবাকে আর ছোট ভাইকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে। দোয়া করবেন আমার ভাইয়ের জন্য। তিনি প্রায় প্রতি শুক্রবারই কসাইটুলীর বাজারে যেতেন, কিন্তু এই শুক্রবারই তার জীবনের ইতি ঘটে গেলো।’

নিহত হাজি আবদুর রহিম ঢাকার সুরিটোলা এলাকায় পরিবারসহ থাকতেন। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন, মেঝ ছেলে হাফেজ, আর মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ে। ছোট ছেলে রিমন সুরিটোলা হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রতিদিনই সে ভাইদের সঙ্গে ঘুরতো-খেলতো। কিন্তু শুক্রবার সকালের ভূমিকম্প সব শেষ করে দিলো।’

লাশ পৌঁছানোর পর থেকেই নিহতদের গ্রামে চলছে কান্নার মাতম। পরিচিতজনদের মতে, পরিবারটি শান্ত-সুশৃঙ্খল ছিল। তাদের কারও সঙ্গে কোনও বিরোধ ছিল না। রহিম সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতেন।

তার বিষয়ে প্রতিবেশী হানিফ বলেন, ‘রহিম সাহেব খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। মানুষের উপকার করা ছিল তার স্বভাব। এমন একজন মানুষকে হারিয়ে বুঝতে পারি— মৃত্যু যেকোনও সময় চলে আসতে পারে।’

নাসির উদ্দিন জানান, ভূমিকম্পের পর প্রথমে তারা ফোনে রহিম ও রিমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় উদ্বেগ বেড়ে যায়। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ছুটির দিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ কেঁপে ওঠে। এ ভূমিকম্পে মাত্রা রিখটার স্কেলে ছিল ৫ দশমিক ৭; উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার পাশে নরসিংদীর মাধবদীতে। ২৬ সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে শিশুসহ ১০ জন নিহত ও ছয় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূমিকম্প: মাংস কিনে বাড়ি ফেরা হলো না বাবা-ছেলের

আপডেট সময় ০১:০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

ছেলে মেহরাব হোসেন রিমনকে (১২) নিয়ে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বাজার করতে বংশালের কসাইটুলীতে যান হাজি আবদুর রহিম (৪৭)। মাংস কিনে তারা ফিরছিলেন বাসায়। পথে একটি ভবনের রেলিং ভেঙে পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান বাবা-ছেলে। এসব কথা বলেছেন নিহত আবদুর রহিমের ছোট ভাই এবং রিমনের চাচা নাসির উদ্দিন।

জানা গেছে, আব্দুর রহিম রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন। তিনি পুরান ঢাকার সুরিটোলা স্কুলের পেছনে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে বাবা-ছেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়স্বজনরা। তাদের জানাজা হয় আস সুন্নাহ মাদ্রাসা ও মসজিদ কমপ্লেক্স। এতে অংশ নেয় হাজারের বেশি মানুষ। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দুই জনকে দাফন করা হয়।

নিহত আবদুর রহিমের ভাই নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাই আর আমার ভাতিজাকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব। কেন আল্লাহ এমন করলেন, সেটা তিনিই জানেন। আমার ভাই খুব ভালো মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে কখনও খারাপ ব্যবহার করেননি। কেউ বলতে পারবে না তিনি কখনও খারাপ কিছু করেছেন। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।’

তিনি বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ ভাতিজা… সে তো মাত্র ক্লাস সিক্সে পড়ে। এই শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হবে না। রিমনের মাকে কেউ সান্ত্বনা দিতে পারছে না। আমার আরেক ভাতিজা বাবাকে আর ছোট ভাইকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে। দোয়া করবেন আমার ভাইয়ের জন্য। তিনি প্রায় প্রতি শুক্রবারই কসাইটুলীর বাজারে যেতেন, কিন্তু এই শুক্রবারই তার জীবনের ইতি ঘটে গেলো।’

নিহত হাজি আবদুর রহিম ঢাকার সুরিটোলা এলাকায় পরিবারসহ থাকতেন। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন, মেঝ ছেলে হাফেজ, আর মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ে। ছোট ছেলে রিমন সুরিটোলা হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রতিদিনই সে ভাইদের সঙ্গে ঘুরতো-খেলতো। কিন্তু শুক্রবার সকালের ভূমিকম্প সব শেষ করে দিলো।’

লাশ পৌঁছানোর পর থেকেই নিহতদের গ্রামে চলছে কান্নার মাতম। পরিচিতজনদের মতে, পরিবারটি শান্ত-সুশৃঙ্খল ছিল। তাদের কারও সঙ্গে কোনও বিরোধ ছিল না। রহিম সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতেন।

তার বিষয়ে প্রতিবেশী হানিফ বলেন, ‘রহিম সাহেব খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। মানুষের উপকার করা ছিল তার স্বভাব। এমন একজন মানুষকে হারিয়ে বুঝতে পারি— মৃত্যু যেকোনও সময় চলে আসতে পারে।’

নাসির উদ্দিন জানান, ভূমিকম্পের পর প্রথমে তারা ফোনে রহিম ও রিমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় উদ্বেগ বেড়ে যায়। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ছুটির দিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ কেঁপে ওঠে। এ ভূমিকম্পে মাত্রা রিখটার স্কেলে ছিল ৫ দশমিক ৭; উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার পাশে নরসিংদীর মাধবদীতে। ২৬ সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে শিশুসহ ১০ জন নিহত ও ছয় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।