০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
বগুড়া শহরে অটোরিকশা ইজিবাইক ও সিএনজির দাপটে থামছে না যানজট।

যানযটে নাকাল বগুড়াবাসী

ডিবিএন প্রতিবেদক

  • আপডেট সময় ০৭:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

বগুড়া শহরে যানজট ছবি সমকাল

ব্রিটিশ আমল থেকেই বগুড়া শহরটি বেশ প্রসিদ্ধ। প্রাচীনকাল থেকেই এ শহরে বাণিজ্য করতে আসতো আশপাশের জেলার বণিকরা । এমনকি পুরো উত্তরবঙ্গই বগুড়া শহরের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল ছিল। এ কারণেই ১৮৭৬ সালে পহেলা জুলাই বগুড়া শহরটি পৌরসভায় রূপান্তরিত হয় যা খুব শীঘ্রই সিটি কর্পোরেশনে পরিণত হচ্ছে।

বগুড়া পৌরসভার আয়তন প্রায় ৬০ বর্গ কিলোমিটার। যেখানে প্রায় ১০ লক্ষ লোকের বসবাস। জেলা তথ্য বাতায়ন বলছে, প্রতি বর্গ কিলোমিটারে এই পৌরসভার জনসংখ্যার ঘনত্ব বা লোক বসবাস করে গড়ে ৫ হাজার ৮৪৩ জন। পৌরসভাটিতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কিন্ডার গার্টেন রয়েছে প্রয় ১৫৮ টি। শহরটিতে যানজটের জন্য অনেকেই এটিকে একটি অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করে। তবে মূল কারণ কি না তা বলা না গেলেও এটি যে অন্যতম একটি কারণ এটা সহজেই অনুমেয়। শহরটিতে স্কুল কলেজের পাশাপাশি রয়েছে সরকারি বেসরকারি মিলে অসংখ্য অফিস আদালত, এনজিও, ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি। যা ছোট এই শহরের তুলনায় অনেক বেশি। আবার শহরের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে বেশ কিছু বিপনি বিতান সহ মার্কেট, রয়েছে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। সবচেয়ে অবাক করার মতো যে বিষয়টি, তথ্য বাতায়ন বলছে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার। এছাড়াও শুধু আবাসিক হোল্ডিং এর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। এসব তথ্যের তুলনায় বর্তমানে এ শহরটিতে বিশেষ করে জনসংখ্যা অনেক বেশি। সুতরাং যানজট হবে এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। শহরটি যানজটে নাকাল বলেই বর্তমান পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে, শহরে ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা দুই ভাগে ভাগ হয়ে চলবে। অর্থাৎ একটি সবুজদল ও অন্যটি লাল দল এবং ইতিমধ্যে লাল সবুজ রং এর কোডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে।। আরো পরিষ্কার করে বললে বলা যায় একটি রং যেদিন চলবে অন্য রং পরের দিন চলবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে প্রতিটি অটো রিক্সাকে এই দুই রঙে রং করা। যা একটু চ্যালেঞ্জিংও বটে। এটি কতটা ফলপ্রসু হবে তা ভাববার বিষয়। যার প্রশংসার চেয়ে সমালোচনাই বেশি হচ্ছে। কারণ কেউ বলছেন এখানে রং এর সাথে চলবে অর্থ বাণিজ্য। আবার শুধু পৌরসভার অটোগুলো রং করা হলে পৌরসভার বাহিরের অটোগুলোর কি হবে? জেলা তথ্য বাতায়ন বলছে, প্যাডেল চালিত রিক্সা বা ভ্যানের লাইসেন্সধারী সংখ্যা ছয় হাজার দুইশত। বর্তমানে যদিও প্যাডেলধারী রিকশা বা ভ্যান লক্ষ্য করা যায় না। এখন সমস্ত রিক্সা বা ভ্যান ব্যাটারি চালিত ও অলিতে গলিতে সিএনজি স্ট্যান্ড এবং এর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। যে কারণে বগুড়া শহরে যানজটের পরিমাণ দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা বা সিএনজি যতই বেশি হোক না কেন, কোন একটি অটো রিক্সা বা সিএনজিও যাত্রীশূন্য নেই অর্থাৎ ব্যাটারি চালিত অটো বা সিএনজি বেশি হলেও যাত্রির সংখ্যাও কম নয়। তার মানে হলো ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা বা সিএনজিরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এছাড়াও এর সাথে কর্মসংস্থান সম্পৃক্ত রয়েছে। তাই অটো রিক্সা ভাগ করলে বা বন্ধ করলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান হারিয়ে মানুষ বেকার হবে, অপরাধ প্রবণতা বাড়বে। অপরদিকে অফিসগামী বা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানগামী মানুষগুলো বা যাত্রীরা যানবাহনের অভাবে পড়বে। সুতরাং ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা বা সিএনজিকে বন্ধ বা অর্ধেক করা কতটা যৌক্তিক হবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

যানজট একটি শহরের জনজীবনকে স্থবির করে ফেলে, যানজটের কবলে গাড়ির চাকা যেমন ঘোরে না তেমনি ওই শহরের অর্থনৈতিক চাকাও ঘোরে না। নাভিশ্বাস করে ফেলে সাধারণ জনজীবনকে। বগুড়া শহরে যেসব জায়গায় যানজটের পরিমাণ বেশি তাহলো মাটির ডালি থেকে সাতমাথা, তিন মাথা থেকে সাতমাথা, বনানী থেকে সাতমাথা, বউবাজার থেকে সাতমাথা, জলেশ্বরী তলা, খানদার থেকে সাতমাথা। এছাড়াও তিন মাথা থেকে নামাজগড় হয়ে দত্তবাড়ি। এইসব প্রতিটি রাস্তায় সপ্তাহে পাঁচ দিন প্রচন্ড রকমের যানজট থাকে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করলেও অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ নিরুপায় বা নিষ্ক্রিয়।

বগুড়া তথা প্রতিটি শহরে যানজট নিরসনে আইন-শৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা ট্রাফিক পুলিশ কাজ করে। বর্তমান সময়ে বগুড়া শহরে রাস্তার যানজট নিরসনে সেনাবাহিনীও কাজ করছে। কিন্তু দেখা যায় সেনাবাহিনীর সাথে রাস্তায় বসা ফুটপাতে দোকানীরা চোর-পুলিশ খেলে বা লুকোচুরি খেলে। একপাশে সেনাবাহিনী ফুটপাতের দোকানগুলো তুলে দেন অপর প্রান্তে যেতে না যেতে ফুটপাতের দোকানগুলো পুনরায় বসে যান ফুটপাতের উপর। ফলে যানজট নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ছে। যানজট নিরসনে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বড়ই প্রয়োজন। যানজট নিরসনে ফুটপাতের দোকানপাটগুলো বসার জন্য বিকল্প কিছু ভাবতে হবে। যেমন ধরুন জলেশ্বরীতলাতে বড় বড় শোরুম থাকাতে সেখানকার যানজট মূল রাস্তা প্রভাব খুব বেশি একটা পড়ে না। কিন্তু মুল রাস্তার পাশে শপিং মলের সামনে ফুটপাত দোকানীদের আনাগোনা একটু বেশি, ফলে যানজটের প্রভাব মূল রাস্তায় পড়ে। তাই এসবের বিকল্প ভাবতেই হবে। বগুড়া শহরের যানজটের আরেকটা অন্যতম কারণ হলো শহরের প্রতিটা রাস্তায় স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের বাস। বগুড়া শহরে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টি স্কুলগামী ছাত্রছাত্রী বাস যাতায়াত করে। যে বাসগুলো শহরের প্রধান সড়কগুলোতেই চলাচল করে এবং যত্রতত্র ইউটার্ন নেয়। ফলে তৈরি হয় যানজট। খুব খেয়াল করলে দেখবেন, স্কুল সময়টাতে সবচেয়ে বেশি যানজট। স্কুল সময় শেষ হলে ফুটপাতের দোকান বা হকারদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ফলে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের বহনকারী বাসের কারণে যানজট তৈরি হয় সেটি আর বোঝা যায় না। তাই এ সমস্যার সমাধান বা বিকল্প ভাবতেই হবে। আবার সাতমাথা ও সাতমাথার আশেপাশে পুরো এলাকাটাই ফুটপাত দোকানদারদের দখলে থাকে এবং মূল রাস্তার উপরে ব্যাটারি চালিত অটোগুলো স্ট্যান্ড করে দাঁড়িয়ে থাকে। ট্রাফিক পুলিশরা নিরুপায় হয়ে এবং নিষ্ক্রিয়ভাবে পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, ঠিক যেন সাক্ষীগোপাল। যানজট তৈরিতে রেল লাইনটা বড় ভূমিকা রাখে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে ট্রেনগুলো বগুড়া শহর অতিক্রম করেন সেগুলোর কারণে সাময়িক সময়ের জন্য মূল রাস্তা বন্ধ রাখতে হয়। ফলে তৈরি হয় যানজট। এক্ষেত্রে ওভার পাস বা আন্ডারপাস তৈরি করে অথবা রেল লাইনটিকে শহরের বাইরে দিলে যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। যানজটের জন্য আরেকটা অন্যতম কারণ হলো যত্রতত্র সিএনজি স্টেশন। তাই সিএনজি স্টেশনগুলোকে মূল সড়কের বাইরে রাখতে হবে। তবে যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে শহরটিতে।
যানজটের খপ্পরে পড়ে শ্রমঘন্টা যেমন নষ্ট হচ্ছে আবার অপরাধ প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে থানা মোড় থেকে দত্তবাড়ি পর্যন্ত। ছিনতাইকারীরা যাত্রীদের হাত থেকে ব্যাগ বা অন্যকিছু নিয়ে নিমিষে উধাও হয়ে যায়। ফলে বিপাকে পড়ছে সাধারণ যাত্রী সাধারণ। এখনই সময় বগুড়া পৌরসভা বা শহর থেকে যানজট নির্মূল করা। রাস্তাগুলো প্রশস্তকরণ ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ সহ বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে প্রশাসনকে। তবেই হয়তো নির্মূল হবে বগুড়া শহরে যানজট।
লেখক : আকতার হোসাইন
ব্যাংকার ও কলামিস্ট

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বগুড়া শহরে অটোরিকশা ইজিবাইক ও সিএনজির দাপটে থামছে না যানজট।

যানযটে নাকাল বগুড়াবাসী

আপডেট সময় ০৭:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

ব্রিটিশ আমল থেকেই বগুড়া শহরটি বেশ প্রসিদ্ধ। প্রাচীনকাল থেকেই এ শহরে বাণিজ্য করতে আসতো আশপাশের জেলার বণিকরা । এমনকি পুরো উত্তরবঙ্গই বগুড়া শহরের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল ছিল। এ কারণেই ১৮৭৬ সালে পহেলা জুলাই বগুড়া শহরটি পৌরসভায় রূপান্তরিত হয় যা খুব শীঘ্রই সিটি কর্পোরেশনে পরিণত হচ্ছে।

বগুড়া পৌরসভার আয়তন প্রায় ৬০ বর্গ কিলোমিটার। যেখানে প্রায় ১০ লক্ষ লোকের বসবাস। জেলা তথ্য বাতায়ন বলছে, প্রতি বর্গ কিলোমিটারে এই পৌরসভার জনসংখ্যার ঘনত্ব বা লোক বসবাস করে গড়ে ৫ হাজার ৮৪৩ জন। পৌরসভাটিতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কিন্ডার গার্টেন রয়েছে প্রয় ১৫৮ টি। শহরটিতে যানজটের জন্য অনেকেই এটিকে একটি অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করে। তবে মূল কারণ কি না তা বলা না গেলেও এটি যে অন্যতম একটি কারণ এটা সহজেই অনুমেয়। শহরটিতে স্কুল কলেজের পাশাপাশি রয়েছে সরকারি বেসরকারি মিলে অসংখ্য অফিস আদালত, এনজিও, ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি। যা ছোট এই শহরের তুলনায় অনেক বেশি। আবার শহরের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে বেশ কিছু বিপনি বিতান সহ মার্কেট, রয়েছে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। সবচেয়ে অবাক করার মতো যে বিষয়টি, তথ্য বাতায়ন বলছে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার। এছাড়াও শুধু আবাসিক হোল্ডিং এর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। এসব তথ্যের তুলনায় বর্তমানে এ শহরটিতে বিশেষ করে জনসংখ্যা অনেক বেশি। সুতরাং যানজট হবে এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। শহরটি যানজটে নাকাল বলেই বর্তমান পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে, শহরে ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা দুই ভাগে ভাগ হয়ে চলবে। অর্থাৎ একটি সবুজদল ও অন্যটি লাল দল এবং ইতিমধ্যে লাল সবুজ রং এর কোডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে।। আরো পরিষ্কার করে বললে বলা যায় একটি রং যেদিন চলবে অন্য রং পরের দিন চলবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে প্রতিটি অটো রিক্সাকে এই দুই রঙে রং করা। যা একটু চ্যালেঞ্জিংও বটে। এটি কতটা ফলপ্রসু হবে তা ভাববার বিষয়। যার প্রশংসার চেয়ে সমালোচনাই বেশি হচ্ছে। কারণ কেউ বলছেন এখানে রং এর সাথে চলবে অর্থ বাণিজ্য। আবার শুধু পৌরসভার অটোগুলো রং করা হলে পৌরসভার বাহিরের অটোগুলোর কি হবে? জেলা তথ্য বাতায়ন বলছে, প্যাডেল চালিত রিক্সা বা ভ্যানের লাইসেন্সধারী সংখ্যা ছয় হাজার দুইশত। বর্তমানে যদিও প্যাডেলধারী রিকশা বা ভ্যান লক্ষ্য করা যায় না। এখন সমস্ত রিক্সা বা ভ্যান ব্যাটারি চালিত ও অলিতে গলিতে সিএনজি স্ট্যান্ড এবং এর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। যে কারণে বগুড়া শহরে যানজটের পরিমাণ দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা বা সিএনজি যতই বেশি হোক না কেন, কোন একটি অটো রিক্সা বা সিএনজিও যাত্রীশূন্য নেই অর্থাৎ ব্যাটারি চালিত অটো বা সিএনজি বেশি হলেও যাত্রির সংখ্যাও কম নয়। তার মানে হলো ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা বা সিএনজিরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এছাড়াও এর সাথে কর্মসংস্থান সম্পৃক্ত রয়েছে। তাই অটো রিক্সা ভাগ করলে বা বন্ধ করলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান হারিয়ে মানুষ বেকার হবে, অপরাধ প্রবণতা বাড়বে। অপরদিকে অফিসগামী বা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানগামী মানুষগুলো বা যাত্রীরা যানবাহনের অভাবে পড়বে। সুতরাং ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা বা সিএনজিকে বন্ধ বা অর্ধেক করা কতটা যৌক্তিক হবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

যানজট একটি শহরের জনজীবনকে স্থবির করে ফেলে, যানজটের কবলে গাড়ির চাকা যেমন ঘোরে না তেমনি ওই শহরের অর্থনৈতিক চাকাও ঘোরে না। নাভিশ্বাস করে ফেলে সাধারণ জনজীবনকে। বগুড়া শহরে যেসব জায়গায় যানজটের পরিমাণ বেশি তাহলো মাটির ডালি থেকে সাতমাথা, তিন মাথা থেকে সাতমাথা, বনানী থেকে সাতমাথা, বউবাজার থেকে সাতমাথা, জলেশ্বরী তলা, খানদার থেকে সাতমাথা। এছাড়াও তিন মাথা থেকে নামাজগড় হয়ে দত্তবাড়ি। এইসব প্রতিটি রাস্তায় সপ্তাহে পাঁচ দিন প্রচন্ড রকমের যানজট থাকে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করলেও অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ নিরুপায় বা নিষ্ক্রিয়।

বগুড়া তথা প্রতিটি শহরে যানজট নিরসনে আইন-শৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা ট্রাফিক পুলিশ কাজ করে। বর্তমান সময়ে বগুড়া শহরে রাস্তার যানজট নিরসনে সেনাবাহিনীও কাজ করছে। কিন্তু দেখা যায় সেনাবাহিনীর সাথে রাস্তায় বসা ফুটপাতে দোকানীরা চোর-পুলিশ খেলে বা লুকোচুরি খেলে। একপাশে সেনাবাহিনী ফুটপাতের দোকানগুলো তুলে দেন অপর প্রান্তে যেতে না যেতে ফুটপাতের দোকানগুলো পুনরায় বসে যান ফুটপাতের উপর। ফলে যানজট নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ছে। যানজট নিরসনে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বড়ই প্রয়োজন। যানজট নিরসনে ফুটপাতের দোকানপাটগুলো বসার জন্য বিকল্প কিছু ভাবতে হবে। যেমন ধরুন জলেশ্বরীতলাতে বড় বড় শোরুম থাকাতে সেখানকার যানজট মূল রাস্তা প্রভাব খুব বেশি একটা পড়ে না। কিন্তু মুল রাস্তার পাশে শপিং মলের সামনে ফুটপাত দোকানীদের আনাগোনা একটু বেশি, ফলে যানজটের প্রভাব মূল রাস্তায় পড়ে। তাই এসবের বিকল্প ভাবতেই হবে। বগুড়া শহরের যানজটের আরেকটা অন্যতম কারণ হলো শহরের প্রতিটা রাস্তায় স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের বাস। বগুড়া শহরে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টি স্কুলগামী ছাত্রছাত্রী বাস যাতায়াত করে। যে বাসগুলো শহরের প্রধান সড়কগুলোতেই চলাচল করে এবং যত্রতত্র ইউটার্ন নেয়। ফলে তৈরি হয় যানজট। খুব খেয়াল করলে দেখবেন, স্কুল সময়টাতে সবচেয়ে বেশি যানজট। স্কুল সময় শেষ হলে ফুটপাতের দোকান বা হকারদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ফলে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের বহনকারী বাসের কারণে যানজট তৈরি হয় সেটি আর বোঝা যায় না। তাই এ সমস্যার সমাধান বা বিকল্প ভাবতেই হবে। আবার সাতমাথা ও সাতমাথার আশেপাশে পুরো এলাকাটাই ফুটপাত দোকানদারদের দখলে থাকে এবং মূল রাস্তার উপরে ব্যাটারি চালিত অটোগুলো স্ট্যান্ড করে দাঁড়িয়ে থাকে। ট্রাফিক পুলিশরা নিরুপায় হয়ে এবং নিষ্ক্রিয়ভাবে পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, ঠিক যেন সাক্ষীগোপাল। যানজট তৈরিতে রেল লাইনটা বড় ভূমিকা রাখে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে ট্রেনগুলো বগুড়া শহর অতিক্রম করেন সেগুলোর কারণে সাময়িক সময়ের জন্য মূল রাস্তা বন্ধ রাখতে হয়। ফলে তৈরি হয় যানজট। এক্ষেত্রে ওভার পাস বা আন্ডারপাস তৈরি করে অথবা রেল লাইনটিকে শহরের বাইরে দিলে যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। যানজটের জন্য আরেকটা অন্যতম কারণ হলো যত্রতত্র সিএনজি স্টেশন। তাই সিএনজি স্টেশনগুলোকে মূল সড়কের বাইরে রাখতে হবে। তবে যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে শহরটিতে।
যানজটের খপ্পরে পড়ে শ্রমঘন্টা যেমন নষ্ট হচ্ছে আবার অপরাধ প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে থানা মোড় থেকে দত্তবাড়ি পর্যন্ত। ছিনতাইকারীরা যাত্রীদের হাত থেকে ব্যাগ বা অন্যকিছু নিয়ে নিমিষে উধাও হয়ে যায়। ফলে বিপাকে পড়ছে সাধারণ যাত্রী সাধারণ। এখনই সময় বগুড়া পৌরসভা বা শহর থেকে যানজট নির্মূল করা। রাস্তাগুলো প্রশস্তকরণ ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ সহ বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে প্রশাসনকে। তবেই হয়তো নির্মূল হবে বগুড়া শহরে যানজট।
লেখক : আকতার হোসাইন
ব্যাংকার ও কলামিস্ট