০৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

‘বন্ধুকে’ কুপিয়ে হত্যার পর রক্তমাখা কুড়ালসহ থানায় আত্মসমর্পণ

ডিবিএন প্রতিবেদক

  • আপডেট সময় ১২:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৯৫ বার পড়া হয়েছে

বা থেকে অভিযুক্ত ওহেদুল ইসলাম অনিক, ডানে নিহত মুনতাসির ফাহিম | ছবি: সংগৃহীত।

মালয়েশিয়া সিটি ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া তরুণ মুনতাসির ফাহিমকে কুপিয়ে হত্যার পর রক্তমাখা চাইনিজ কুড়াল হাতে ত্রিশাল থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওহেদুল ইসলাম অনিক। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে, পুলিশ স্কুলমাঠের পাশে পড়ে থাকা ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সরকারি নজরুল অ্যাকাডেমি স্কুল মাঠের পাশে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, গতকালা রাত ৯টার দিকে ওহেদুল ইসলাম অনিক নামে এক তরুণ থানায় হাজির হন। তার হাতে ছিল রক্তমাখা একটি চাইনিজ কুড়াল। তিনি পুলিশকে বলেন, ‘ফাহিম আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে, তাই তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছি।’ এরপরই পুলিশ তাকে আটক করে।

অনিকের দেওয়া তথ্য অনুসারে ত্রিশাল সরকারি নজরুল অ্যাকাডেমি স্কুল মাঠে অনুসন্ধান করে পুলিশ। মাঠের পূর্ব পাশে পানির ট্যাংকির সঙ্গে পড়ে থাকতে দেখা যায় মুনতাসির ফাহিমের মরদেহ। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহত ফাহিম সদর ইউনিয়নের চিকনা গ্রামের রেজাউল ইসলাম বাদলের বড় ছেলে। আর অভিযুক্ত ওহেদুল ইসলাম অনিক পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের জহিরুল মণ্ডলের ছেলে। দুইজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্ব ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফাহিমের বাবা রেজাউল ইসলাম বাদল বলেন, তার ছেলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছিল এবং ছুটিতে দেশে এসে ছিল। শনিবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববিরোধের জেরে অনিক পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। তিনি সন্তানের হত্যার বিচার দাবি করেন।

ত্রিশাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে অনিক হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল বলে তিনি জানান।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার অনিককে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘বন্ধুকে’ কুপিয়ে হত্যার পর রক্তমাখা কুড়ালসহ থানায় আত্মসমর্পণ

আপডেট সময় ১২:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

মালয়েশিয়া সিটি ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া তরুণ মুনতাসির ফাহিমকে কুপিয়ে হত্যার পর রক্তমাখা চাইনিজ কুড়াল হাতে ত্রিশাল থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওহেদুল ইসলাম অনিক। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে, পুলিশ স্কুলমাঠের পাশে পড়ে থাকা ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সরকারি নজরুল অ্যাকাডেমি স্কুল মাঠের পাশে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, গতকালা রাত ৯টার দিকে ওহেদুল ইসলাম অনিক নামে এক তরুণ থানায় হাজির হন। তার হাতে ছিল রক্তমাখা একটি চাইনিজ কুড়াল। তিনি পুলিশকে বলেন, ‘ফাহিম আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে, তাই তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছি।’ এরপরই পুলিশ তাকে আটক করে।

অনিকের দেওয়া তথ্য অনুসারে ত্রিশাল সরকারি নজরুল অ্যাকাডেমি স্কুল মাঠে অনুসন্ধান করে পুলিশ। মাঠের পূর্ব পাশে পানির ট্যাংকির সঙ্গে পড়ে থাকতে দেখা যায় মুনতাসির ফাহিমের মরদেহ। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহত ফাহিম সদর ইউনিয়নের চিকনা গ্রামের রেজাউল ইসলাম বাদলের বড় ছেলে। আর অভিযুক্ত ওহেদুল ইসলাম অনিক পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের জহিরুল মণ্ডলের ছেলে। দুইজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্ব ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফাহিমের বাবা রেজাউল ইসলাম বাদল বলেন, তার ছেলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছিল এবং ছুটিতে দেশে এসে ছিল। শনিবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববিরোধের জেরে অনিক পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। তিনি সন্তানের হত্যার বিচার দাবি করেন।

ত্রিশাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে অনিক হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল বলে তিনি জানান।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার অনিককে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।