সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া, উদ্বিগ্ন দেশবাসী
ডিবিএন প্রতিবেদক
- আপডেট সময় ১২:৩৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
- / ৬৪ বার পড়া হয়েছে
ভালো নেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। জ্ঞান থাকলেও স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নেই বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। একটু সুস্থ হলেই লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন সারাদেশের মানুষ। দল-মত নির্বিশেষে সব মানুষের প্রার্থনায় আওয়ামী যুগে নির্যাতিত-নির্বাসিত মজলুম এই নেত্রী। নেটিজেনরা বলছেন, খালেদা জিয়া শুধু বিএনপি নেত্রী নন।
ত্যাগে, দুঃসাহসিকতায়, স্পষ্টবাদিতায়, আপসহীন ভূমিকায় গণতন্ত্র রক্ষায় সর্ব মহলে অনন্য প্রেরণার প্রতীক। মসজিদে মসজিদে, উপাসনালয়ে সুস্থতায় ফিরে আসার আহ্বানে খালেদা জিয়ার নাম। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা দিচ্ছেন মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মী, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। তার শয্যাপাশে রয়েছেন ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বলছে, ছাত্র-জনতার রক্ত বিজয়ের পর গত ৫ আগস্ট থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন জাতির অভিভাবক। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আপসহীন খেতাব পাওয়া নেত্রীর শয্যাশায়ীতে দেশদুনিয়ায় দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। ফাঁসির দ-প্রাপ্ত হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন।

যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। এরপর পর গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বেগম খালেদা জিয়া। সেই থেকে এখনো তিনি খারাপ সময় পার করছেন। সাতদিনেও কোনো ভালো খবর জানাতে পারেননি চিকিৎসকরা। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ।
শনিবার গুলশানে দলীয় ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও লন্ডনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বোর্ড সভা করে মতামত নিয়েছেন। হয়তো বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু এখনই নেওয়ার মতো অবস্থা নেই। শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে প্রয়োজনে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিদেশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে। দলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর কাছে তিনি নেত্রীর রোগমুক্তির জন্য দোয়া চেয়েছেন।
উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা তৈরি হলেই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। আযম খান বলেন, খালেদা জিয়া সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে কথা হয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা অনুমতি দিলেই তাকে বিদেশে নেওয়া হবে। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গ্রিন সিগন্যাল দিলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। শনিবার রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মহান আল্লাহর নিকট তার সুস্থতা এবং একইসঙ্গে দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করি।











