বগুড়ায় বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভনে প্রতারণা, আটক ১
- আপডেট সময় ০৯:৫০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
বগুড়ায় বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মো. মোকছেদ আলী (৪৭) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ যোগাযোগ করে অভিযুক্তকে বগুড়া সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক মোকছেদ আলী বগুড়া সদর থানার ইসলামপুর হারিগাড়ী-উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে মো. মোমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়, কয়েকদিন আগে মোকছেদ আলী ও তার সহযোগীরা উপজেলার বড় বেলাইল গ্রামের লোকজনকে জানায় যে, তারা যদি ‘দাঁড়ি পাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেন তবে তাদের বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া হবে। তার প্রলোভনে পড়ে গ্রামের বেশ কিছু দরিদ্র মানুষ তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি তার কাছে জমা দেন।
শনিবার সকালে অভিযুক্ত মোকছেদ পুনরায় ওই গ্রামে গিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি অনলাইন ফরম দেখিয়ে কার্ড তৈরির খরচ বাবদ জনপ্রতি ২৫০ টাকা দাবি করেন। বড় বেলাইল হিন্দুপাড়া গ্রামের গোপীনাথ, মিলন, জমনী রানীসহ একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু করলে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা মোমিনুল ইসলাম, বিপ্লব কুমার গুপ্ত ও মিলনের সহযোগিতায় মোকছেদ আলীকে আটক করা হয়।
এ নিয়ে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি মারমুখী হয়ে ওঠে। তাৎক্ষণিকভাবে মোমিনুল ইসলাম ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং মোকছেদ আলীকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
বাদী মোমিনুল ইসলাম জানান, মোকছেদ আলী প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি এজাহার দায়ের করেছেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, ‘৯৯৯-এর কল পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে, আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।’
বগুড়া সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম লিটন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো তথ্য নেই।
টাকা নিয়ে ভাতার কার্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। ভাতার সব কার্যক্রম এখন বন্ধ। এমন ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















