দলে সুযোগ না পেয়ে কোচের ওপর হামলা, ভারতীয় তিন ক্রিকেটার পলাতক
- আপডেট সময় ০৩:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে এক ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে পন্ডিচেরি। দলে সুযোগ না পাওয়ার ক্ষোভে অনূর্ধ্ব–১৯ দলের কোচ এস ভেঙ্কটারামনের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে স্থানীয় তিন ক্রিকেটার। সোমবার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব পন্ডিচেরির (সিএপি) কমপ্লেক্সের ভেতরেই ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে কোচকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়।
হামলায় গুরুতর আহত কোচ ভেঙ্কটারামনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কপালে ২০টি সেলাই লেগেছে এবং কাঁধের হাড়ে চিড় ধরা পড়েছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন সেদারাপেট থানার সাব–ইন্সপেক্টর এস রাজেশ। তবে অভিযুক্ত তিন ক্রিকেটার—কার্তিকেয়া জয়সুন্দর, এ আরাভিন্দারাজ ও এস সন্তোষ কুমার ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাদের খুঁজছে।
জানা গেছে, সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির স্কোয়াডে জায়গা না পেয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন ওই তিন ক্রিকেটার। কোচ ভেঙ্কটারামন তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ৮ ডিসেম্বর সকালে সিএপি কমপ্লেক্সে ওই তিন ক্রিকেটার তাকে ঘিরে ধরে হেনস্তা শুরু করে। এক পর্যায়ে আরাভিন্দারাজ তাকে জাপটে ধরে এবং কার্তিকেয়া ব্যাট দিয়ে আঘাত করতে থাকে। হামলার সময় তারা বলছিল, কোচকে মেরে ফেললেই নাকি তারা দলে জায়গা পাবে—এমন আশ্বাস তাদের দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ভারতিদাসান পন্ডিচেরি ক্রিকেটার্স ফোরামের সচিব জি চন্দ্রনের উসকানিতেই এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পন্ডিচেরি ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও ‘বহিরাগত’ বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ভুয়া আধার কার্ড ও জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে বহিরাগতরা নিজেদের স্থানীয় সাজিয়ে পন্ডিচেরির দলগুলোতে জায়গা দখল করছে। ২০২১ সালের পর থেকে রঞ্জি ট্রফিতে পন্ডিচেরির হয়ে মাত্র পাঁচজন প্রকৃত স্থানীয় খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পেয়েছেন। যদিও সিএপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ন্যক্কারজনক এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বোর্ডের যুগ্ম সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, বিসিসিআই খুব শিগগিরই এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। এদিকে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব পন্ডিচেরি (সিএপি) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে।


























