১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

খড়ের দাম আকাশচুম্বী, বিপাকে খামারিরা

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ০৪:৩০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর দুর্গাপুরে ভরা মৌসুমে কমেনি খড়( আউর) এর দাম। নিম্নমানের পানিতে ডোবা খড় দ্বিগুণ দামে কিনে বিপাকে পড়ছেন খামারিরা। অতি বৃষ্টির ফলে মাঠেই অর্ধেকের বেশি-খড় নষ্ট হয়েছে। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় দাম বৃদ্ধি পেয়ে আকাশচুম্বী হয়েছে।সরজমিনে উপজেলার দুর্গাপুর, নওপাড়া, মাড়িয়া, ঝালুকা, জয়নগর ইউপির বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রোপা আমন ধান কেটে, মাড়াই করে ধান সংগ্রহ করছেন কৃষকেরা। মাঠ থেকে আকার ভেদে, ১০০ আঁটি (পিস) খড় ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গতবছরের তুলনায় দাম বৃদ্ধি পেয়ে তিনগুণ হয়েছে। পর্যাপ্ত খড়ের জোগান না থাকায় বিক্রয়ে আগ্রহ নেই কৃষকের মাঝে।

মাড়িয়া এলাকার কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান, “আমি প্রতিবছর রোপ আমন ধান চাষাবাদ করি। এবারে অতিবৃষ্টির জন্য আমার অর্ধেক জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় ধান লাগাতে পারিনি। যতটুকু লাগিয়েছিলাম, হঠাৎ বৃষ্টিতে ধান তলিয়ে অনেক খড় নষ্ট হয়ে গেছে”।
খড়ের চাহিদা ও দাম অনেক থাকলেও আমার বাড়িতে গরু থাকায় খড় বিক্রি করিনি। খামারী গোলাম রাব্বানী জানান, “আমার দুগ্ধ খামারে ১০ টি গরু রয়েছে। নিয়মিত খড়, ভুসি, কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হয়। ৩ টাকা আঁটির আউর এখন ১০ টাকা। পূর্বের তুলনায় আটি গুলো অনেক ছোট। গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও দুধের দাম নেই। আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্বিগুণ।
খামার কীভাবে চালাবো? এতো খরচ করে গরু পালন করা সম্ভব না। তাই গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি”।

খড়ের পাইকারি বিক্রেতা, কাজেম আলী জানান,“অতি বৃষ্টির ফলে এলাকায় খড়ের উৎপাদন অর্ধেকে ঠেকেছে। দাম এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে এলাকা থেকে পাইকারি কেনার উপায় নেই। সরাসরি কৃষক খামারিদের মাঝে লেনদেন হচ্ছে। নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলা থেকে খড় ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে কিনে এনেছি। দাম বেশি থাকায় ক্রেতারা দাম শুনে চলে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য নেই আমরা অনেক কষ্টে রয়েছি”।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খড়ের দাম আকাশচুম্বী, বিপাকে খামারিরা

আপডেট সময় ০৪:৩০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর দুর্গাপুরে ভরা মৌসুমে কমেনি খড়( আউর) এর দাম। নিম্নমানের পানিতে ডোবা খড় দ্বিগুণ দামে কিনে বিপাকে পড়ছেন খামারিরা। অতি বৃষ্টির ফলে মাঠেই অর্ধেকের বেশি-খড় নষ্ট হয়েছে। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় দাম বৃদ্ধি পেয়ে আকাশচুম্বী হয়েছে।সরজমিনে উপজেলার দুর্গাপুর, নওপাড়া, মাড়িয়া, ঝালুকা, জয়নগর ইউপির বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রোপা আমন ধান কেটে, মাড়াই করে ধান সংগ্রহ করছেন কৃষকেরা। মাঠ থেকে আকার ভেদে, ১০০ আঁটি (পিস) খড় ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গতবছরের তুলনায় দাম বৃদ্ধি পেয়ে তিনগুণ হয়েছে। পর্যাপ্ত খড়ের জোগান না থাকায় বিক্রয়ে আগ্রহ নেই কৃষকের মাঝে।

মাড়িয়া এলাকার কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান, “আমি প্রতিবছর রোপ আমন ধান চাষাবাদ করি। এবারে অতিবৃষ্টির জন্য আমার অর্ধেক জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় ধান লাগাতে পারিনি। যতটুকু লাগিয়েছিলাম, হঠাৎ বৃষ্টিতে ধান তলিয়ে অনেক খড় নষ্ট হয়ে গেছে”।
খড়ের চাহিদা ও দাম অনেক থাকলেও আমার বাড়িতে গরু থাকায় খড় বিক্রি করিনি। খামারী গোলাম রাব্বানী জানান, “আমার দুগ্ধ খামারে ১০ টি গরু রয়েছে। নিয়মিত খড়, ভুসি, কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হয়। ৩ টাকা আঁটির আউর এখন ১০ টাকা। পূর্বের তুলনায় আটি গুলো অনেক ছোট। গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও দুধের দাম নেই। আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্বিগুণ।
খামার কীভাবে চালাবো? এতো খরচ করে গরু পালন করা সম্ভব না। তাই গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি”।

খড়ের পাইকারি বিক্রেতা, কাজেম আলী জানান,“অতি বৃষ্টির ফলে এলাকায় খড়ের উৎপাদন অর্ধেকে ঠেকেছে। দাম এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে এলাকা থেকে পাইকারি কেনার উপায় নেই। সরাসরি কৃষক খামারিদের মাঝে লেনদেন হচ্ছে। নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলা থেকে খড় ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে কিনে এনেছি। দাম বেশি থাকায় ক্রেতারা দাম শুনে চলে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য নেই আমরা অনেক কষ্টে রয়েছি”।