০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাগমারায় বহিস্কৃত জামায়াত নেতার নেতৃত্বে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ০৫:৩৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর বাগমারায় বিলে মৎস্য চাষ নিয়ে দ্বন্দ্বে বহিস্কৃত জামায়াত নেতার নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় বাড়ী ঘরে হামলা, লুটপাট, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের সাইধাড়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত নয়’টার দিকে এ ঘটনা ঘটানো হয়। অন্তত ১৫ টি বাড়ীঘরে হামলা চালানো হয়।

সূত্র জানায়, যশোবিলে মৎস্য চাষ নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। যশো বিলটি চাষ করছেন বহিস্কৃত জামায়াত নেতা আজিজুর রহমান, আব্দুল জব্বার, প্রভাবশালী মোশারফ হোসেন, জুলফিকার রহমান বাচ্চু, ।

সাইধাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল চন্দ্র দেবনাথ, আব্দুল জব্বার, আব্দুল মান্নান, জানিয়েছেন, আমাদের যশো বিলে কিছু জমিজমা আছে। কিন্তু আমাদের টাকা পরিশোধ না করে, নানা ভাবে টালবাহানা,হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বিল কমিটি। সর্বশেষ আমরা জমিজমা লিজের টাকা চাইলে তাঁরা সুপরিকল্পিত ভাবে বহিরাগত এবং গ্রামের কয়েকজন চিহ্নিত দুষ্কৃতকারী দ্বিতীয় দফায় বাড়ী ঘরে হামলা, লুটপাট, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে।

হামলার সময় বৈদ্যুতিক মিটার, বিশুদ্ধ পানির মোটর, আলু খেত, দরজা-জানালা, বসতবাড়ির প্রাচীর, টিনের চালা ভাঙচুর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, জুলফিকার রহমান বাচ্চু’র ইন্ধনে সরাসরি হামলায় অংশগ্রহণ করেন, একই গ্রামের বহিস্কৃত জামায়াত নেতা সেফাতুল্লার পুত্র আজিজুর রহমান, সোলাইমানের পুত্র আব্দুল জব্বার।

এছাড়াও সেকেন আলী, লেকেন আলী, মোজাহার আলী, মোজাফফর হোসেন,আব্দুর রাজ্জাক এবং কয়েকজন বহিরাগত সহ হামলা, লুটপাট, ভাংচুর অগ্নিসংযোগ মিশনে সরাসরি জড়িত। প্রায় ২৫/৩০ জন দলবদ্ধ হয়ে এ হামলায় অংশ নেয়।

সব মিলিয়ে হামলায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এ হামলায় বিলে যাদের জমিজমা আছে, বিশেষ করে হিন্দু কমিউনিটি ৩০ ঘর বাসীন্দাদের চোখেমুখে ভীতি ও আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে। ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

হাটগাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমরা একবার সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। পরবর্তীতে আবারও হামলা করা হয়েছে। আমরা এখন ঘটনাস্থলে রয়েছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করানো হয়েছে।

অভিযুক্ত নরদাশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, আমি অসুস্থ ঘটনা সমন্ধে আমি কিছু জানি না। প্রভাবশালী জুলফিকার রহমান বাচ্চু সংবাদ কর্মীদের বলেন, বিলে আমার কোন অংশ নেই, এঘটনাটি আওয়ামী লীগ নেতা জাফরের নেতৃত্বে হয়েছে। উভয় নেতা বিলে তাদের শেয়ার নেই বলে দাবী করেন।

তবে রাজনৈতিক কাজে ঘটনার পূর্বে সাইধাড়া গ্রামে গিয়েছেন বলে স্বীকার করেন জুলফিকার রহমান বাচ্চু। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল আলম বলেন, ঘটনা সমন্ধে অবগত আছি। হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। ভুক্তভোগীরা মামলা করতে চাইলে মামলা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারায় বহিস্কৃত জামায়াত নেতার নেতৃত্বে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:৩৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর বাগমারায় বিলে মৎস্য চাষ নিয়ে দ্বন্দ্বে বহিস্কৃত জামায়াত নেতার নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় বাড়ী ঘরে হামলা, লুটপাট, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের সাইধাড়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত নয়’টার দিকে এ ঘটনা ঘটানো হয়। অন্তত ১৫ টি বাড়ীঘরে হামলা চালানো হয়।

সূত্র জানায়, যশোবিলে মৎস্য চাষ নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। যশো বিলটি চাষ করছেন বহিস্কৃত জামায়াত নেতা আজিজুর রহমান, আব্দুল জব্বার, প্রভাবশালী মোশারফ হোসেন, জুলফিকার রহমান বাচ্চু, ।

সাইধাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল চন্দ্র দেবনাথ, আব্দুল জব্বার, আব্দুল মান্নান, জানিয়েছেন, আমাদের যশো বিলে কিছু জমিজমা আছে। কিন্তু আমাদের টাকা পরিশোধ না করে, নানা ভাবে টালবাহানা,হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বিল কমিটি। সর্বশেষ আমরা জমিজমা লিজের টাকা চাইলে তাঁরা সুপরিকল্পিত ভাবে বহিরাগত এবং গ্রামের কয়েকজন চিহ্নিত দুষ্কৃতকারী দ্বিতীয় দফায় বাড়ী ঘরে হামলা, লুটপাট, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে।

হামলার সময় বৈদ্যুতিক মিটার, বিশুদ্ধ পানির মোটর, আলু খেত, দরজা-জানালা, বসতবাড়ির প্রাচীর, টিনের চালা ভাঙচুর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, জুলফিকার রহমান বাচ্চু’র ইন্ধনে সরাসরি হামলায় অংশগ্রহণ করেন, একই গ্রামের বহিস্কৃত জামায়াত নেতা সেফাতুল্লার পুত্র আজিজুর রহমান, সোলাইমানের পুত্র আব্দুল জব্বার।

এছাড়াও সেকেন আলী, লেকেন আলী, মোজাহার আলী, মোজাফফর হোসেন,আব্দুর রাজ্জাক এবং কয়েকজন বহিরাগত সহ হামলা, লুটপাট, ভাংচুর অগ্নিসংযোগ মিশনে সরাসরি জড়িত। প্রায় ২৫/৩০ জন দলবদ্ধ হয়ে এ হামলায় অংশ নেয়।

সব মিলিয়ে হামলায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এ হামলায় বিলে যাদের জমিজমা আছে, বিশেষ করে হিন্দু কমিউনিটি ৩০ ঘর বাসীন্দাদের চোখেমুখে ভীতি ও আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে। ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

হাটগাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমরা একবার সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। পরবর্তীতে আবারও হামলা করা হয়েছে। আমরা এখন ঘটনাস্থলে রয়েছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করানো হয়েছে।

অভিযুক্ত নরদাশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, আমি অসুস্থ ঘটনা সমন্ধে আমি কিছু জানি না। প্রভাবশালী জুলফিকার রহমান বাচ্চু সংবাদ কর্মীদের বলেন, বিলে আমার কোন অংশ নেই, এঘটনাটি আওয়ামী লীগ নেতা জাফরের নেতৃত্বে হয়েছে। উভয় নেতা বিলে তাদের শেয়ার নেই বলে দাবী করেন।

তবে রাজনৈতিক কাজে ঘটনার পূর্বে সাইধাড়া গ্রামে গিয়েছেন বলে স্বীকার করেন জুলফিকার রহমান বাচ্চু। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল আলম বলেন, ঘটনা সমন্ধে অবগত আছি। হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। ভুক্তভোগীরা মামলা করতে চাইলে মামলা গ্রহণ করা হবে।