০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

জয়পুরহাট কালাইয়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী প্রকল্পে ভয়াবহ জালিয়াতি

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ০১:১৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
জয়পুরহাট কালাইয়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী প্রকল্পে ভয়াবহ জালিয়াতি। ১১ জনের বদলে দেখানো হয় ১,৩৫৬ শিক্ষার্থী, আত্মসাৎ সাড়ে ৩ কোটি টাকা তিন এডিসি ও এক ইউএনওসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তিনজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি), একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আল মামুন গত ১৭ ডিসেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। তবে এখনো মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, প্রকল্পে ১ হাজার ৩৫৬ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থী দেখানো হলেও রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণে বাস্তবে পাওয়া গেছে মাত্র ১১ জন শিক্ষার্থী। অথচ এই গুরুতর অসঙ্গতি উপেক্ষা করে প্রকল্পের কার্যক্রম ‘সন্তোষজনক’ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এর মাধ্যমে সরকারের ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামীদের মধ্যে রয়েছেন, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও কালাই উপজেলার সাবেক ইউএনও টুকটুক তালুকদার।নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও সাবেক ইউএনও জান্নাত আরা তিথি, নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও সাবেক ইউএনও আবুল হায়াত,
এবং কালাই উপজেলার সাবেক ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান।
তারা সবাই ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি (আইভিএ) কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ও যাচাই কমিটির আরও ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও আসামী করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর (বিএনএফই) পিইডিপি-৪ কর্মসূচির সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ প্রকল্পে এ অনিয়ম ঘটেছে।
প্রকৃত ঝরে পড়া শিক্ষার্থী যাচাই না করে ১ হাজার ৬৫৭ জন ভূয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে কালাই উপজেলায় ৫৫টি ভূয়া উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (শিখনকেন্দ্র) স্থাপন করা হয়েছে বলে কাগজপত্র তৈরি করা হয়। এসব ভূয়া শিক্ষার্থীর নামে শিক্ষক বেতন, প্রশিক্ষণ, পোশাক, ব্যাগ, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, আইভিএ কমিটির সদস্যরা বিধিমালা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে শিখনকেন্দ্র, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাচাই বাছাই না করেই ভুয়া ও অগ্রহণযোগ্য রেকর্ডপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রকল্পের অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে টুকটুক তালুকদার বলেন, আমার স্বাক্ষরে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি। আমি শুধু মনিটরিং টিমে ছিলাম।
শামিমা আক্তার জাহান দাবী করেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর আমি যোগ দিয়েছি। আগের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুধু সমাপনী প্রত্যয়নে স্বাক্ষর করেছি।
জান্নাত আরা তিথি বলেন, আমি মামলার বিষয়ে কিছু জানি না। অন্য আসামি আবুল হায়াতের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জয়পুরহাট কালাইয়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী প্রকল্পে ভয়াবহ জালিয়াতি

আপডেট সময় ০১:১৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
জয়পুরহাট কালাইয়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী প্রকল্পে ভয়াবহ জালিয়াতি। ১১ জনের বদলে দেখানো হয় ১,৩৫৬ শিক্ষার্থী, আত্মসাৎ সাড়ে ৩ কোটি টাকা তিন এডিসি ও এক ইউএনওসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তিনজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি), একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আল মামুন গত ১৭ ডিসেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। তবে এখনো মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, প্রকল্পে ১ হাজার ৩৫৬ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থী দেখানো হলেও রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণে বাস্তবে পাওয়া গেছে মাত্র ১১ জন শিক্ষার্থী। অথচ এই গুরুতর অসঙ্গতি উপেক্ষা করে প্রকল্পের কার্যক্রম ‘সন্তোষজনক’ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এর মাধ্যমে সরকারের ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামীদের মধ্যে রয়েছেন, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও কালাই উপজেলার সাবেক ইউএনও টুকটুক তালুকদার।নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও সাবেক ইউএনও জান্নাত আরা তিথি, নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও সাবেক ইউএনও আবুল হায়াত,
এবং কালাই উপজেলার সাবেক ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান।
তারা সবাই ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি (আইভিএ) কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ও যাচাই কমিটির আরও ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও আসামী করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর (বিএনএফই) পিইডিপি-৪ কর্মসূচির সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ প্রকল্পে এ অনিয়ম ঘটেছে।
প্রকৃত ঝরে পড়া শিক্ষার্থী যাচাই না করে ১ হাজার ৬৫৭ জন ভূয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে কালাই উপজেলায় ৫৫টি ভূয়া উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (শিখনকেন্দ্র) স্থাপন করা হয়েছে বলে কাগজপত্র তৈরি করা হয়। এসব ভূয়া শিক্ষার্থীর নামে শিক্ষক বেতন, প্রশিক্ষণ, পোশাক, ব্যাগ, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, আইভিএ কমিটির সদস্যরা বিধিমালা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে শিখনকেন্দ্র, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাচাই বাছাই না করেই ভুয়া ও অগ্রহণযোগ্য রেকর্ডপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রকল্পের অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে টুকটুক তালুকদার বলেন, আমার স্বাক্ষরে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি। আমি শুধু মনিটরিং টিমে ছিলাম।
শামিমা আক্তার জাহান দাবী করেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর আমি যোগ দিয়েছি। আগের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুধু সমাপনী প্রত্যয়নে স্বাক্ষর করেছি।
জান্নাত আরা তিথি বলেন, আমি মামলার বিষয়ে কিছু জানি না। অন্য আসামি আবুল হায়াতের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।