০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

কে এই মার্টিন লুথার কিং?

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ০১:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশ্ববিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ উল্লেখ করে বলেন, কিংয়ের যেমন একটি স্বপ্ন ছিল, তেমনি তারও বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ১৭ বছর পর স্বদেশে ফিরে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান এই বক্তব্য দেন। তার এই মন্তব্যের পর জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়—কে এই মার্টিন লুথার কিং, যার স্বপ্ন আজও বিশ্বজুড়ে আলোচিত?

কে ছিলেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ছিলেন একজন আমেরিকান ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরের এক পাদরি পরিবারে।

যুক্তরাষ্ট্রে যখন বর্ণবৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছিল এবং কৃষ্ণাঙ্গরা ভোটাধিকার ও নাগরিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত ছিল, তখন মার্টিন লুথার কিং নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন

‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’: ইতিহাস বদলে দেওয়া ভাষণ

১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি দেন তার ঐতিহাসিক ভাষণ—
‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’

সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন,
“আমার একটি স্বপ্ন আছে যে একদিন এই জাতি জেগে উঠবে এবং মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করবে।
আমার স্বপ্ন আছে যে, আমার চার সন্তান একদিন এমন এক দেশে বাস করবে যেখানে তাদের গায়ের রং দিয়ে নয়, বরং তাদের চরিত্রের গুণাবলি দিয়ে বিচার করা হবে।”

তার এই ভাষণ শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের চেতনাকে নাড়িয়ে দেয়

অহিংস আন্দোলন ও নোবেল পুরস্কার

মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত মার্টিন লুথার কিং অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাস করতেন। কোনো সহিংসতা ছাড়াই তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার ও সামাজিক মর্যাদা আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যান।

এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৪ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন—তখন তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী।

হত্যাকাণ্ড ও অমর উত্তরাধিকার

দুর্ভাগ্যবশত, ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিস শহরের একটি হোটেলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। তবে তার স্বপ্ন ও আদর্শ আজও বিশ্ব রাজনীতি ও মানবাধিকার আন্দোলনে প্রেরণা জোগাচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কে এই মার্টিন লুথার কিং?

আপডেট সময় ০১:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশ্ববিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ উল্লেখ করে বলেন, কিংয়ের যেমন একটি স্বপ্ন ছিল, তেমনি তারও বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ১৭ বছর পর স্বদেশে ফিরে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান এই বক্তব্য দেন। তার এই মন্তব্যের পর জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়—কে এই মার্টিন লুথার কিং, যার স্বপ্ন আজও বিশ্বজুড়ে আলোচিত?

কে ছিলেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ছিলেন একজন আমেরিকান ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরের এক পাদরি পরিবারে।

যুক্তরাষ্ট্রে যখন বর্ণবৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছিল এবং কৃষ্ণাঙ্গরা ভোটাধিকার ও নাগরিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত ছিল, তখন মার্টিন লুথার কিং নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন

‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’: ইতিহাস বদলে দেওয়া ভাষণ

১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি দেন তার ঐতিহাসিক ভাষণ—
‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’

সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন,
“আমার একটি স্বপ্ন আছে যে একদিন এই জাতি জেগে উঠবে এবং মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করবে।
আমার স্বপ্ন আছে যে, আমার চার সন্তান একদিন এমন এক দেশে বাস করবে যেখানে তাদের গায়ের রং দিয়ে নয়, বরং তাদের চরিত্রের গুণাবলি দিয়ে বিচার করা হবে।”

তার এই ভাষণ শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের চেতনাকে নাড়িয়ে দেয়

অহিংস আন্দোলন ও নোবেল পুরস্কার

মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত মার্টিন লুথার কিং অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাস করতেন। কোনো সহিংসতা ছাড়াই তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার ও সামাজিক মর্যাদা আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যান।

এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৪ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন—তখন তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী।

হত্যাকাণ্ড ও অমর উত্তরাধিকার

দুর্ভাগ্যবশত, ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিস শহরের একটি হোটেলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। তবে তার স্বপ্ন ও আদর্শ আজও বিশ্ব রাজনীতি ও মানবাধিকার আন্দোলনে প্রেরণা জোগাচ্ছে।