বগুড়ায় পুলিশের সাথে ডাকাতদলের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা গ্রেপ্তার ২
- আপডেট সময় ১০:৫১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে বগুড়ায় মহাসড়কে ফিল্মি কায়দায় পুলিশ ও ডাকাত দলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় দুই সদস্যকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে ২৪ ডিসেম্বর বগুড়া সদর থানা এলাকায় ডাকাত দলের সাথে ফিল্মি কায়দায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই দিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৪ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছিল।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুমিল্লার লাঙ্গলকোট উপজেলার দক্ষিণ শাকতুলী গ্রামের মোসাদ্দের আলী ওরফে মোহন (৩০) এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার রামদেবপুর গ্রামের মো. ইউনুস আলী (৩৫)।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে ১৫/২০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বগুড়া সদর এলাকার বারোপুর ফ্লাইওভার থেকে মাটিডালী বিমান মোড় পর্যন্ত তাণ্ডব চালায়। তারা ওই এলাকায় একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও এমআর ব্রাদার্স ডিস্ট্রিবিউশন হাউসে প্রবেশ করে কর্মীদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে। ডাকাতরা সেখান থেকে নগদ ৪৩ হাজার ৩৮২ টাকা, একটি লাইসেন্সকৃত শটগান ও ১০ রাউন্ড কার্তুজ লুট করে পালিয়ে যায়। ডাকাতির খবর পেয়ে টহল পুলিশ ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের ধাওয়া করে। কুয়াশার কারণে একবার ডাকাতরা আড়ালে চলে গেলেও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকলে কলেজ হাসপাতালের সামনে পুলিশ ট্রাকটি পুনরায় শনাক্ত করে। পুলিশ পিছু নিলে ডাকাতরা মহাস্থানগড়ের দিকে পালাতে থাকে। এ সময় তারা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ধাতব বস্তু ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে পুণ্ড্র ইউনিভার্সিটি এলাকায় ডাকাতরা ট্রাক ঘুরিয়ে পুলিশের পিকআপকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ধাওয়ার মুখে ডাকাতরা ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিত্যক্ত ট্রাকটি তল্লাশি করে পুলিশ লুট হওয়া শটগান, চারটি গুলি, চারটি হাসুয়া, একটি চাকু, গ্যাস সিলিন্ডার ও কাটার সরঞ্জাম (অক্সিজেন ও গ্যাসসহ), লোহার পাইপ, ৫টি রশি এবং ৪টি মোবাইলফোন উদ্ধার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, এই চক্রটি একটি কুখ্যাত আন্তজেলা ডাকাত দল। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় মামলা হয়েছে। বগুড়া সদর এলাকার আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে সদর থানা পুলিশ সর্বদা কাজ করছে বলেও জানান তিনি।





















