১১:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

‘ও মুসলিম, ওকে মেরে ফেল’ বলতে বলতেই কুপিয়ে-পিটিয়ে খুন

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ০৮:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলায় এক মুসলিম ব্যক্তিকে তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের নাম পাপ্পু আনসারি (৪০)। পোড়াইয়াতি থানা এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে মুসলিম হিসেবে চিহ্নিত করার পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের ভাই মোহাম্মদ নাসিম অভিযোগ করেছেন যে, পাপ্পু আনসারিকে বিবস্ত্র করে বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “তারা ওর প্যান্ট খুলে ফেলে এবং ও মুসলিম নিশ্চিত হওয়ার পর আমার ভাইকে মেরে ফেলে। ওকে ফাড়সা (কুড়াল সদৃশ অস্ত্র) দিয়ে কোপানো হয়েছে, লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে, তীর বিদ্ধ করা হয়েছে এবং ছেনি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। যার হাতে যা ছিল তাই দিয়ে ওকে আক্রমণ করেছে। ‘ও মুসলিম, ওকে মেরে ফেল’—এই কথা বলতে বলতে ওকে খুন করা হলো। মুসলিম হওয়া কি অপরাধ? আমাদের দেশে এটাই কি বিচার?”

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, পাপ্পু আনসারি গবাদি পশু পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন এবং পরে টাকা মেটানোর অজুহাতে তাকে আবার ডাকা হয়। নাসিম বলেন, “ভোরবেলা আমার ভাইকে সেখানে ডাকা হয়েছিল। সে একজন চালকের সাথে গিয়ে টাকা নেয়। এরপর তাকে বলা হয় গরু দেওয়া হবে না এবং সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বলা হয়। সে যখন পালানোর চেষ্টা করে, তখন পেছন থেকে কেউ তাকে আক্রমণ করে। এরপর তাকে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে।”

ঘটনাটি ঘটে বুধবার এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যবর্তী রাতে মাটিহানি গ্রামে। বৃহস্পতিবার সকালে মাটিহানি ও লাট্টা গ্রামের মধ্যবর্তী একটি মাঠে আনসারির মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি পাথরগামা থানা এলাকার রানিপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, রাত ১টা নাগাদ গবাদি পশু চুরির সন্দেহে গ্রামবাসীরা পাপ্পু আনসারিকে ধরে ফেলে এবং লাঠি দিয়ে মারধর করে। খবর পেয়ে পোড়াইয়াতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহাবীর পণ্ডিত এবং পরবর্তীতে সদর দপ্তরের ডিএসপি জেপিএন চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত চলাকালীন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চটি, রক্তমাখা লাঠি, একটি পোড়া মোবাইল ফোন, গুটখার প্যাকেট এবং ছাই উদ্ধার করেছে। ডিএসপি জেপিএন চৌধুরী বলেন, “যুবকটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা জড়িতদের শনাক্ত করছি এবং অভিযান চলছে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘ও মুসলিম, ওকে মেরে ফেল’ বলতে বলতেই কুপিয়ে-পিটিয়ে খুন

আপডেট সময় ০৮:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলায় এক মুসলিম ব্যক্তিকে তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের নাম পাপ্পু আনসারি (৪০)। পোড়াইয়াতি থানা এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে মুসলিম হিসেবে চিহ্নিত করার পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের ভাই মোহাম্মদ নাসিম অভিযোগ করেছেন যে, পাপ্পু আনসারিকে বিবস্ত্র করে বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “তারা ওর প্যান্ট খুলে ফেলে এবং ও মুসলিম নিশ্চিত হওয়ার পর আমার ভাইকে মেরে ফেলে। ওকে ফাড়সা (কুড়াল সদৃশ অস্ত্র) দিয়ে কোপানো হয়েছে, লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে, তীর বিদ্ধ করা হয়েছে এবং ছেনি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। যার হাতে যা ছিল তাই দিয়ে ওকে আক্রমণ করেছে। ‘ও মুসলিম, ওকে মেরে ফেল’—এই কথা বলতে বলতে ওকে খুন করা হলো। মুসলিম হওয়া কি অপরাধ? আমাদের দেশে এটাই কি বিচার?”

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, পাপ্পু আনসারি গবাদি পশু পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন এবং পরে টাকা মেটানোর অজুহাতে তাকে আবার ডাকা হয়। নাসিম বলেন, “ভোরবেলা আমার ভাইকে সেখানে ডাকা হয়েছিল। সে একজন চালকের সাথে গিয়ে টাকা নেয়। এরপর তাকে বলা হয় গরু দেওয়া হবে না এবং সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বলা হয়। সে যখন পালানোর চেষ্টা করে, তখন পেছন থেকে কেউ তাকে আক্রমণ করে। এরপর তাকে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে।”

ঘটনাটি ঘটে বুধবার এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যবর্তী রাতে মাটিহানি গ্রামে। বৃহস্পতিবার সকালে মাটিহানি ও লাট্টা গ্রামের মধ্যবর্তী একটি মাঠে আনসারির মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি পাথরগামা থানা এলাকার রানিপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, রাত ১টা নাগাদ গবাদি পশু চুরির সন্দেহে গ্রামবাসীরা পাপ্পু আনসারিকে ধরে ফেলে এবং লাঠি দিয়ে মারধর করে। খবর পেয়ে পোড়াইয়াতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহাবীর পণ্ডিত এবং পরবর্তীতে সদর দপ্তরের ডিএসপি জেপিএন চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত চলাকালীন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চটি, রক্তমাখা লাঠি, একটি পোড়া মোবাইল ফোন, গুটখার প্যাকেট এবং ছাই উদ্ধার করেছে। ডিএসপি জেপিএন চৌধুরী বলেন, “যুবকটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা জড়িতদের শনাক্ত করছি এবং অভিযান চলছে।”