০২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও লাঞ্ছনা: দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় লাগাম টানা জরুরি

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ০৬:১৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন মহীয়সী ও সহনশীল নেত্রীর স্মরণে আয়োজিত শোকসভা থেকে আমরা যখন তাঁর উদার রাজনৈতিক দর্শনের পাঠ নিচ্ছি, ঠিক তখনই সেই সভার আয়োজকদের একজনের হাতে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত হওয়ার খবরটি আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত ও স্তম্ভিত করেছে। গত শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যে অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছে, তা কেবল সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়, বরং যে নেত্রীর স্মরণে এই আয়োজন, তাঁর আদর্শের পরিপন্থী এক চরম ঔদ্ধত্য।

সময় টিভির বিশেষ প্রতিনিধি আহমেদ সালেহীন যখন পেশাগত দায়িত্ব পালনে লাইভ সম্প্রচার করছিলেন, তখন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিনের ‘এখানে লাইভ হবে না’ বলে চিৎকার করা এবং তাঁকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রিন টিভির রিপোর্টারসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে যে আপত্তিকর আচরণ করা হয়েছে, তা মুক্ত সাংবাদিকতার পথে এক বিরাট অন্তরায়। প্রশ্ন জাগে, যে দলটি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার জন্য লড়াই করার দাবি করে আসছে, তাদের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের মানসিকতা কি আজও বদলায়নি?

বিবৃতিতে বিএনপি বিটের সাংবাদিকরা অত্যন্ত যৌক্তিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন—এ ধরনের ‘উগ্র মস্তিষ্কের’ লোকদের এত বড় জাতীয় আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া কতটা সমীচীন? বেগম জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে শত নির্যাতনের মুখেও যে পরিমিতিবোধ ও রুচিশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তাঁরই শোকসভায় এমন অপেশাদার আচরণ দলের ভাবমূর্তিকে কেবল ক্ষুণ্ণই করে।দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যানের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মিডিয়া কার্ড সংগ্রহ পর্যন্ত সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যে সাংবাদিকরা বিগত স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে জেল-জুলুম উপেক্ষা করে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন, তাঁদের কেন আজ নিজ দেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিব্রত হতে হবে?

রাজনীতিবিদদের মনে রাখা উচিত, গণমাধ্যম হলো গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকদের বাধা দিয়ে বা তাঁদের সঙ্গে পেশিশক্তি প্রদর্শন করে কোনো মহৎ উদ্দেশ্য সফল করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যখন দেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার চেষ্টা করছে, তখন রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে থাকা ‘অতি-উৎসাহী’ বা ‘উগ্র’ কর্মীদের লাগাম টানা জরুরি।

আমরা আশা করি, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা কেবল একটি দলের দায়িত্ব নয়, বরং এটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ। বেগম খালেদা জিয়ার প্রকৃত সম্মান তখনই রক্ষিত হবে, যখন তাঁর অনুসারীরা তাঁর মতো ধৈর্য, সহনশীলতা ও সৌজন্যবোধের পরিচয় দেবেন।

 

শেখ ফরিদ

কবি ও গণমাধ্যমকর্মী

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও লাঞ্ছনা: দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় লাগাম টানা জরুরি

আপডেট সময় ০৬:১৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন মহীয়সী ও সহনশীল নেত্রীর স্মরণে আয়োজিত শোকসভা থেকে আমরা যখন তাঁর উদার রাজনৈতিক দর্শনের পাঠ নিচ্ছি, ঠিক তখনই সেই সভার আয়োজকদের একজনের হাতে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত হওয়ার খবরটি আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত ও স্তম্ভিত করেছে। গত শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যে অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছে, তা কেবল সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়, বরং যে নেত্রীর স্মরণে এই আয়োজন, তাঁর আদর্শের পরিপন্থী এক চরম ঔদ্ধত্য।

সময় টিভির বিশেষ প্রতিনিধি আহমেদ সালেহীন যখন পেশাগত দায়িত্ব পালনে লাইভ সম্প্রচার করছিলেন, তখন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিনের ‘এখানে লাইভ হবে না’ বলে চিৎকার করা এবং তাঁকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রিন টিভির রিপোর্টারসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে যে আপত্তিকর আচরণ করা হয়েছে, তা মুক্ত সাংবাদিকতার পথে এক বিরাট অন্তরায়। প্রশ্ন জাগে, যে দলটি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার জন্য লড়াই করার দাবি করে আসছে, তাদের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের মানসিকতা কি আজও বদলায়নি?

বিবৃতিতে বিএনপি বিটের সাংবাদিকরা অত্যন্ত যৌক্তিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন—এ ধরনের ‘উগ্র মস্তিষ্কের’ লোকদের এত বড় জাতীয় আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া কতটা সমীচীন? বেগম জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে শত নির্যাতনের মুখেও যে পরিমিতিবোধ ও রুচিশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তাঁরই শোকসভায় এমন অপেশাদার আচরণ দলের ভাবমূর্তিকে কেবল ক্ষুণ্ণই করে।দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যানের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মিডিয়া কার্ড সংগ্রহ পর্যন্ত সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যে সাংবাদিকরা বিগত স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে জেল-জুলুম উপেক্ষা করে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন, তাঁদের কেন আজ নিজ দেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিব্রত হতে হবে?

রাজনীতিবিদদের মনে রাখা উচিত, গণমাধ্যম হলো গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকদের বাধা দিয়ে বা তাঁদের সঙ্গে পেশিশক্তি প্রদর্শন করে কোনো মহৎ উদ্দেশ্য সফল করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যখন দেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার চেষ্টা করছে, তখন রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে থাকা ‘অতি-উৎসাহী’ বা ‘উগ্র’ কর্মীদের লাগাম টানা জরুরি।

আমরা আশা করি, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা কেবল একটি দলের দায়িত্ব নয়, বরং এটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ। বেগম খালেদা জিয়ার প্রকৃত সম্মান তখনই রক্ষিত হবে, যখন তাঁর অনুসারীরা তাঁর মতো ধৈর্য, সহনশীলতা ও সৌজন্যবোধের পরিচয় দেবেন।

 

শেখ ফরিদ

কবি ও গণমাধ্যমকর্মী