ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহত ৩ হাজার ১১৭ জন, প্রথমবার দাপ্তরিক হিসাব প্রকাশ
- আপডেট সময় ০৬:০০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
People rally and hold a vigil to honor those killed during the nationwide protests in Iran, outside the White House in Washington, D.C., U.S., January 16, 2026. REUTERS/Kylie Cooper
দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রাণহানির বিষয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেছে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া সহিংস বিক্ষোভে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি ফরেনসিক মেডিসিন অর্গানাইজেশনের বরাতে এই পরিসংখ্যান প্রচার করে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে চলমান অস্থিরতার ইতিহাসে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—উভয় পক্ষের লোকজন রয়েছেন। মোট নিহত ৩ হাজার ১১৭ জনের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে সরকারিভাবে ‘শহীদ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে, ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাকারী’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।
তবে এই সংখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন অধিকারকর্মী গোষ্ঠী। তাদের মতে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে চালানো দমন অভিযানের কারণে সঠিক তথ্য প্রকাশ পায়নি বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, তাদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সংস্থাটির অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী আন্দোলন দমনে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি লাইভ গুলি ও ভারী মেশিনগান ব্যবহার করেছে।
এছাড়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, অনেক এলাকায় ভবনের ছাদ থেকে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে এবং বহু মানুষকে চোখ লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে তা দ্রুত রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ জানুয়ারি থেকে ক্ষমতাসীন ধর্মীয় নেতৃত্বের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে নজিরবিহীন ধর্মঘট ও গণমিছিল শুরু হয়।
বিক্ষোভের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরতে তেহরান মিউনিসিপ্যালিটি সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন স্থানে ভস্মীভূত এক ডজন বাসের ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শন করেছে।
















