১২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেননি সাদ্দামের পরিবার!

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ১০:৫৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

স্ত্রীর ও সন্তানের মৃত্যুর পর বাগেরহাট সদর উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তির জন্য তার পরিবার আবেদন করেননি। বাগেরহাটের প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অথচ বিষয়টি নিয়ে একটি পক্ষের নানা গুঞ্জন চলছে।

কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ভাই শুভ হাওলাদার জানান, আমার বোনের স্বামী সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে মৌখিকভাবে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পর জানানো হয়, সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি। এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিতে হবে। সময় স্বল্পতার কারণে প্যারোলে মুক্তির জন্য যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়নি।

শুভ হাওলাদার আরও জানান, পরে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শেষবারের মতো জেল গেটে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখানো হবে সাদ্দামকে। এরপর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে যোগাযোগ করে শনিবার সন্ধ্যায় স্বর্ণালী ও নাজিফের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়। স্ত্রী সন্তানের লাশ দেখার জন্য সাদ্দামকে ৫ মিনিটের জন্য জেলগেটে এনেছিল কারা কর্তৃপক্ষ।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার আবিদ আহমেদ জানান, প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার জেলা প্রশাসকের। কিন্তু সেই চিঠি তাদের কাছে ছিল না। সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনো কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে মরদেহ কারাফটকে আনা হলে মানবিক দিক বিবেচনায় মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়। ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকেও স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করেছিলেন।

বাগেরহাট সদর থানার ওসি মাসুম খান সাংবাদিকদের জানান, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক আদেশ বা তথ্য তার কাছে ছিল না।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন সাংবাদিকদের জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে সাদ্দামের মুক্তির জন্য আমাদের কাছে কোনো আবেদন করা হয়নি। যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি যশোর কারাগারে রয়েছেন, তাই বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ৯ মাসের শিশু সেহজাদ হোসেন নাজিফকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর ঝুলন্ত অবস্থায় মা কানিজ সুর্বণা স্বর্ণালীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তান। এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা ও একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হয়েছে। শনিবার রাত ১১টায় জানাজা শেষে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেননি সাদ্দামের পরিবার!

আপডেট সময় ১০:৫৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

স্ত্রীর ও সন্তানের মৃত্যুর পর বাগেরহাট সদর উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তির জন্য তার পরিবার আবেদন করেননি। বাগেরহাটের প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অথচ বিষয়টি নিয়ে একটি পক্ষের নানা গুঞ্জন চলছে।

কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ভাই শুভ হাওলাদার জানান, আমার বোনের স্বামী সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে মৌখিকভাবে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পর জানানো হয়, সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি। এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিতে হবে। সময় স্বল্পতার কারণে প্যারোলে মুক্তির জন্য যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়নি।

শুভ হাওলাদার আরও জানান, পরে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শেষবারের মতো জেল গেটে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখানো হবে সাদ্দামকে। এরপর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে যোগাযোগ করে শনিবার সন্ধ্যায় স্বর্ণালী ও নাজিফের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়। স্ত্রী সন্তানের লাশ দেখার জন্য সাদ্দামকে ৫ মিনিটের জন্য জেলগেটে এনেছিল কারা কর্তৃপক্ষ।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার আবিদ আহমেদ জানান, প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার জেলা প্রশাসকের। কিন্তু সেই চিঠি তাদের কাছে ছিল না। সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনো কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে মরদেহ কারাফটকে আনা হলে মানবিক দিক বিবেচনায় মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়। ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকেও স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করেছিলেন।

বাগেরহাট সদর থানার ওসি মাসুম খান সাংবাদিকদের জানান, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক আদেশ বা তথ্য তার কাছে ছিল না।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন সাংবাদিকদের জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে সাদ্দামের মুক্তির জন্য আমাদের কাছে কোনো আবেদন করা হয়নি। যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি যশোর কারাগারে রয়েছেন, তাই বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ৯ মাসের শিশু সেহজাদ হোসেন নাজিফকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর ঝুলন্ত অবস্থায় মা কানিজ সুর্বণা স্বর্ণালীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তান। এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা ও একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হয়েছে। শনিবার রাত ১১টায় জানাজা শেষে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।