১০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

বগুড়ায় শেষ মুহূর্তে ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে এমপি প্রার্থীরা

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ০৮:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণ। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও অলিগলি।উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, পথসভা, প্রচার মিছিল ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন প্রার্থীরা।

জেলার সবকটি আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপির ধানের শীষ ও জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের হাটবাজার ও বিভিন্ন আড্ডায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিএনপি-জামায়াত। আওয়ামী লীগ না থাকায় এবারের নির্বাচনে এই দুই দলই প্রধান শক্তি হিসেবে ভোটারদের কাছে যাচ্ছে।

বগুড়া জেলা ১২ উপজেলা ও ১১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে সংসদীয় আসন ৭টি। মোট ভোটার ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১, নারী ১৫ লাখ ১ হাজার ২৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪২ জন।

এবারের নির্বাচনে ৯টি রাজনৈতিক দলের ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচারণার শেষ মুহূর্তে দিন-রাত সমান করে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন তারা। 

ভোটারদের কাছে নদীভাঙন রোধ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, নারীদের উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান, রেল যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়াখাতের উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছে বিএনপি ও জামায়াত। ভোটাররা বলছেন, তারা এমন প্রতিনিধি চান যিনি শুধু রাজনীতি নয়, বগুড়াসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন।

বগুড়াকে বিএনপির দুর্গ বলা হলেও সেখানে শক্ত অবস্থান তৈরিতে মাঠে নেমেছে জামায়াত।

বিগত নির্বাচনগুলোতে বগুড়ার সাতটি আসনই বিএনপির দখলে ছিল। এবারও সাতটি আসনে জয় নিশ্চিত করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, বগুড়া-৬ সদর আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ায় ভোটের মাঠে নতুন গতি এসেছে। গত ২৯ জানুয়ারি তাঁর বগুড়া সফরের পর প্রচারণায় নতুন উদ্দীপনা দেখা যায়। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রায় দুই শতাধিক সাইকেল নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁর পক্ষে র‌্যালি করেন, যা তারুণ্যের উৎসবে পরিণত হয়। 

অন্যদিকে জামায়াতও গণমিছিল ও র‌্যালির মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের মহিলা বিভাগ শহরে র‌্যালি বের করে। এ সময় তারা জানান, নারী ভোটারদের বড় একটি অংশ তাদের পক্ষে রয়েছে।

বগুড়া-৬ সদর আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন শহর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জেএসডির আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ এবং বাসদের দিলরুবা। তবে এই আসনে মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এছাড়া বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা), বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ), বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া), বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম), বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) ও বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনেও শেষ মুহূর্তে প্রচারণায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়ায় আসার পর ভোটের মাঠ বদলে গেছে। বগুড়ার প্রতিটি আসনে ধানের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইনশাল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে বগুড়াকে বঞ্চিত করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে এখানে উন্নয়ন হয়নি। বগুড়ায় যত উন্নয়ন হয়েছে তা বিএনপির আমলেই হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারও উন্নয়ন হবে।

বগুড়া-৬ সদর আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও শহর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, এবারের নির্বাচনে তাঁরা আশাবাদী এবং নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন। ভোটাররাও উৎসাহিত বলে তিনি দাবি করেন। বগুড়ায় বিভাগ বাস্তবায়ন, প্রথম শ্রেণির সিটি কর্পোরেশন গঠন, যানজট নিরসন, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ জামায়াতের প্রধান পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে দেশের জনগণ এবার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিবে। ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করবে জামায়াত।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বগুড়ায় শেষ মুহূর্তে ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে এমপি প্রার্থীরা

আপডেট সময় ০৮:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণ। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও অলিগলি।উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, পথসভা, প্রচার মিছিল ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন প্রার্থীরা।

জেলার সবকটি আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপির ধানের শীষ ও জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের হাটবাজার ও বিভিন্ন আড্ডায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিএনপি-জামায়াত। আওয়ামী লীগ না থাকায় এবারের নির্বাচনে এই দুই দলই প্রধান শক্তি হিসেবে ভোটারদের কাছে যাচ্ছে।

বগুড়া জেলা ১২ উপজেলা ও ১১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে সংসদীয় আসন ৭টি। মোট ভোটার ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১, নারী ১৫ লাখ ১ হাজার ২৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪২ জন।

এবারের নির্বাচনে ৯টি রাজনৈতিক দলের ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচারণার শেষ মুহূর্তে দিন-রাত সমান করে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন তারা। 

ভোটারদের কাছে নদীভাঙন রোধ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, নারীদের উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান, রেল যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়াখাতের উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছে বিএনপি ও জামায়াত। ভোটাররা বলছেন, তারা এমন প্রতিনিধি চান যিনি শুধু রাজনীতি নয়, বগুড়াসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন।

বগুড়াকে বিএনপির দুর্গ বলা হলেও সেখানে শক্ত অবস্থান তৈরিতে মাঠে নেমেছে জামায়াত।

বিগত নির্বাচনগুলোতে বগুড়ার সাতটি আসনই বিএনপির দখলে ছিল। এবারও সাতটি আসনে জয় নিশ্চিত করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, বগুড়া-৬ সদর আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ায় ভোটের মাঠে নতুন গতি এসেছে। গত ২৯ জানুয়ারি তাঁর বগুড়া সফরের পর প্রচারণায় নতুন উদ্দীপনা দেখা যায়। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রায় দুই শতাধিক সাইকেল নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁর পক্ষে র‌্যালি করেন, যা তারুণ্যের উৎসবে পরিণত হয়। 

অন্যদিকে জামায়াতও গণমিছিল ও র‌্যালির মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের মহিলা বিভাগ শহরে র‌্যালি বের করে। এ সময় তারা জানান, নারী ভোটারদের বড় একটি অংশ তাদের পক্ষে রয়েছে।

বগুড়া-৬ সদর আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন শহর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জেএসডির আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ এবং বাসদের দিলরুবা। তবে এই আসনে মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এছাড়া বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা), বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ), বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া), বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম), বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) ও বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনেও শেষ মুহূর্তে প্রচারণায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়ায় আসার পর ভোটের মাঠ বদলে গেছে। বগুড়ার প্রতিটি আসনে ধানের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইনশাল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে বগুড়াকে বঞ্চিত করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে এখানে উন্নয়ন হয়নি। বগুড়ায় যত উন্নয়ন হয়েছে তা বিএনপির আমলেই হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারও উন্নয়ন হবে।

বগুড়া-৬ সদর আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও শহর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, এবারের নির্বাচনে তাঁরা আশাবাদী এবং নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন। ভোটাররাও উৎসাহিত বলে তিনি দাবি করেন। বগুড়ায় বিভাগ বাস্তবায়ন, প্রথম শ্রেণির সিটি কর্পোরেশন গঠন, যানজট নিরসন, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ জামায়াতের প্রধান পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে দেশের জনগণ এবার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিবে। ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করবে জামায়াত।