১২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ঝিনাইদহ, আহত ৩০

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ০৮:৫৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঝিনাইদহে ৩টি আসনে নির্বাচন পরবর্তী হামলা-ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জে হামলায় স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রতীকের প্রায় ২৮ জন সমর্থক ও ধানের শীষ প্রতীকের ২ জন সমর্থক আহতসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা করা হয়েছে। আহতদের কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও যশোর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী বিভিন্ন এলাকায় ওইসব হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে জামায়াত প্রার্থী আবু তালিব বিজয়ী হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ পিরিচ প্রতিকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও ধানের শীষের রাশেদ খান সমর্থকেরা গভীর রাত থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। এরপর শুক্রবার সকাল থেকে কোলা, জামাল, নিয়ামতপুর, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন ও কালীগঞ্জ শহরে দফায় দফায় হামলা শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে ধানের শীষের সমর্থকরা কালীগঞ্জ শহরের থানা রোডে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও ৩ জনকে কুপিয়ে জখম করে। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় সংঘর্ষে প্রায় ২৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও ২ জন ধানের শীষের সমর্থক আহত হন। আহতদের মধ্যে সাবেক বহিষ্কৃত পৌর বিএনপির নেতা জবেদ আলী, ছাত্রদল নেতা ইভন, খোকন ও মোশারেফ শেখ সহ একাধিক ব্যক্তিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মোশারেফ শেখ বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক। ধানের শীষের কর্মীরা অন্যায় ভাবে আমাকে আহত করেছে।

এসব হামলার ঘটনা নিয়ে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ তার প্রধান নির্বাচনী অফিসের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, অন্যায় ভাবে আমার নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও কর্মী সমর্থকদের কুপিয়ে জখম করেছে ধানের শীষের সমর্থকরা। তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থানা পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যে কারণে এ আসনের বিভিন্ন এলাকার আমার কর্মী সমর্থকদের ওপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে তারা। এসব অভিযোগের বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, কে বা কারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে আমার জানা নেই। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) জেল্লাই হোসেন জানান, বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনও পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া ঝিনাইদহ-২ আসনে সদরে দোকানের হামলা-ভাংচুর করা হয়েছে। এ সময় জামায়াত কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে ধানের শীষের সমর্থকেরা। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ঝিনাইদহ-৩ আসনের মহেশপুর উপজেলা শহরে অবস্থিত প্রেসক্লাব ব্যাপক হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে। অফিস কক্ষের আসবাবপত্র তছনছ করার ঘটনায় প্রেসক্লাবের সভাপতি সরোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জিয়ার রহমান জিয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, সাংবাদিকদের সংগঠনের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।

এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, আমরা বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ঝিনাইদহ, আহত ৩০

আপডেট সময় ০৮:৫৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঝিনাইদহে ৩টি আসনে নির্বাচন পরবর্তী হামলা-ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জে হামলায় স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রতীকের প্রায় ২৮ জন সমর্থক ও ধানের শীষ প্রতীকের ২ জন সমর্থক আহতসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা করা হয়েছে। আহতদের কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও যশোর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী বিভিন্ন এলাকায় ওইসব হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে জামায়াত প্রার্থী আবু তালিব বিজয়ী হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ পিরিচ প্রতিকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও ধানের শীষের রাশেদ খান সমর্থকেরা গভীর রাত থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। এরপর শুক্রবার সকাল থেকে কোলা, জামাল, নিয়ামতপুর, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন ও কালীগঞ্জ শহরে দফায় দফায় হামলা শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে ধানের শীষের সমর্থকরা কালীগঞ্জ শহরের থানা রোডে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও ৩ জনকে কুপিয়ে জখম করে। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় সংঘর্ষে প্রায় ২৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও ২ জন ধানের শীষের সমর্থক আহত হন। আহতদের মধ্যে সাবেক বহিষ্কৃত পৌর বিএনপির নেতা জবেদ আলী, ছাত্রদল নেতা ইভন, খোকন ও মোশারেফ শেখ সহ একাধিক ব্যক্তিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মোশারেফ শেখ বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক। ধানের শীষের কর্মীরা অন্যায় ভাবে আমাকে আহত করেছে।

এসব হামলার ঘটনা নিয়ে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ তার প্রধান নির্বাচনী অফিসের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, অন্যায় ভাবে আমার নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও কর্মী সমর্থকদের কুপিয়ে জখম করেছে ধানের শীষের সমর্থকরা। তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থানা পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যে কারণে এ আসনের বিভিন্ন এলাকার আমার কর্মী সমর্থকদের ওপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে তারা। এসব অভিযোগের বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, কে বা কারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে আমার জানা নেই। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) জেল্লাই হোসেন জানান, বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনও পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া ঝিনাইদহ-২ আসনে সদরে দোকানের হামলা-ভাংচুর করা হয়েছে। এ সময় জামায়াত কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে ধানের শীষের সমর্থকেরা। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ঝিনাইদহ-৩ আসনের মহেশপুর উপজেলা শহরে অবস্থিত প্রেসক্লাব ব্যাপক হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে। অফিস কক্ষের আসবাবপত্র তছনছ করার ঘটনায় প্রেসক্লাবের সভাপতি সরোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জিয়ার রহমান জিয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, সাংবাদিকদের সংগঠনের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।

এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, আমরা বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।