সুদীপ কুমার চক্রবর্তীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তাইম হত্যা মামলায় বিচার শুরুর আদেশ
- আপডেট সময় ০৩:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীসহ ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ প্রদান করেন। একইসাথে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো পড়ে শোনান। এই মামলায় যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসানের বিরুদ্ধে হত্যা ও কমান্ড রেসপনসিবিলিটিসহ তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক এসআই শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও মিথ্যা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ফাঁসানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। কাঠগড়ায় থাকা আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলে আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন।
আজকের শুনানিতে অংশ নিতে কারাগারে থাকা দুই আসামি সাবেক ওসি আবুল হাসান ও এসআই শাহাদাত আলীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীসহ অপর ৯ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের তালিকায় ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম ও ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনিরসহ আরও বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম রয়েছে। পলাতক এই আসামিদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন রাষ্ট্রনিযুক্ত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং গাজী এমএইচ তামিমসহ একটি প্রতিনিধি দল। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আবুল হাসান ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা আইনি লড়াই পরিচালনা করেন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে নিজের বাবার সহকর্মী পুলিশ সদস্যদের গুলিতে তাইম নিহত হওয়ার এই ঘটনাটি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম বর্বরোচিত হিসেবে বিবেচিত। ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হলো।

















