স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীর কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি, গ্রেপ্তার ৪
- আপডেট সময় ০৬:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে স্বামীকে আটক রেখে স্ত্রীর কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভৈরব থানা পুলিশ। এদের গ্রেপ্তার করা হয় ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত দেড়টায় পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে। এ সময় অপহরণকৃত নাঈম মিয়া নামের একজন ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান আকন্দ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মাহমুদ হোসেনের ছেলে খোকন মাহমুদ (৪৬), একই এলাকার মধ্যপাড়ার মৃত ধন মিয়ার ছেলে আবুল কাসেম (৪৫), লিটন মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া (৩৫), নুর ইসলামের ছেলে শাহ আলম (৪৫)।
অপহরণকৃত ব্যক্তি কমলপুর নিউটাউন এলাকার হাছেন আলী মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া নাঈম মিয়া। অভিযোগকারী নারী তার স্ত্রী সাজিয়া খানম নিশি।
থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুই মাস আগে আবুল কাসেমকে তালাক দিয়ে সাজিয়া খানম নিশি নাঈম মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আবুল কাসেমকে তালাক দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভৈরব বাজার থেকে সাবেক স্ত্রীর স্বামী নাঈম মিয়াকে অপহরণ করে আবুল কাসেমসহ তার সহযোগীরা। অপহরণের পর সাবেক স্ত্রীর কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
নাঈম মিয়া বলেন, ‘আমি বাজারে রিপ্রেজেন্টেটিভের কাজ করি। ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কাসেম ও খোকনসহ কয়েকজন আমাকে বাজার থেকে অপহরণ করে জগন্নাথপুরে নিয়ে আসে। সেখানে হাতে-পায়ে জিঞ্জিল বেঁধে মারধর করা হয়। তারা ৫০ লাখ টাকা দিতে বলে এবং টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। রাতে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।’ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘রাতে অপহরণের বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজে জগন্নাথপুর এলাকায় যাই। সেখানে খোকন মিয়ার অফিসের ভিতর থেকে শাট কেটে, হাতে-পায়ে জিঞ্জিল দিয়ে বাধা অবস্থায় নাঈম মিয়াকে উদ্ধার করি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কাসেম ও খোকনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
















