চাঁদার টাকাকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আটক ১
- আপডেট সময় ১২:৩৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বরগুনার পাথরঘাটায় মাছের আড়ত থেকে আদায়কৃত চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে পৌরশহরের লঞ্চঘাট সংলগ্ন ব্রিজের পাশের বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহায়তায় শামীম হোসেন নামে একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আটক শামীম কালমেঘা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাছেরখাল এলাকার মো. মজিবর মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (বিএফডিসি) পরিচালিত পাথরঘাটা মৎস্য ঘাটে প্রতিদিন কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এখানে জেলে, আড়তদার, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। সেই অর্থের একটি অংশ অতিরিক্তভাবে দাবি করা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ব্যবসায়ী ফোরকান জানান, দুপুরের দিকে চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেলে করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এনামুল হক ইমু ও তার সহযোগীরা এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে মো. কালু, সোহাগ, আবু সালেহ ও শামীমসহ অন্তত সাত থেকে আটজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা শামীমকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়।
তবে অভিযুক্ত এনামুল হক ইমু চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বড় মৎস্য ঘাট হওয়ায় এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার রয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় একটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
















