১০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

দুই মামলায় যুবলীগ নেতা সম্রাটের ২০ বছরের জেল

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ০৫:২০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের পৃথক দুটি মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন আলোচিত এই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত সম্রাটকে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন, যা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী ফকির জাহিদুল ইসলাম রায়ের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে সম্রাটকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে তাঁকে আরও ছয় মাস কারাবরণ করতে হবে। অন্যদিকে, মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অপরাধে তাঁকে পৃথকভাবে আরও ১০ বছর কারাদণ্ড ও সমপরিমাণ জরিমানা করা হয়েছে। দুই ধারার সাজা মিলিয়ে তাঁকে মোট ২০ বছর জেল খাটতে হবে। রায় ঘোষণার সময় এই যুবলীগ নেতা আদালতে অনুপস্থিত বা পলাতক থাকায় বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর তদন্ত শেষে সম্রাটের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। গত বছরের ১৭ জুলাই এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই সময়েই সম্রাটের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ২ ফেব্রুয়ারি এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়। অভিযোগপত্রে থাকা ২১ জন সাক্ষীর সবাই আদালতের সামনে নিজেদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। বিচারক সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করলেন। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হওয়া সম্রাটের এই সাজা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুই মামলায় যুবলীগ নেতা সম্রাটের ২০ বছরের জেল

আপডেট সময় ০৫:২০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের পৃথক দুটি মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন আলোচিত এই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত সম্রাটকে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন, যা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী ফকির জাহিদুল ইসলাম রায়ের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে সম্রাটকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে তাঁকে আরও ছয় মাস কারাবরণ করতে হবে। অন্যদিকে, মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অপরাধে তাঁকে পৃথকভাবে আরও ১০ বছর কারাদণ্ড ও সমপরিমাণ জরিমানা করা হয়েছে। দুই ধারার সাজা মিলিয়ে তাঁকে মোট ২০ বছর জেল খাটতে হবে। রায় ঘোষণার সময় এই যুবলীগ নেতা আদালতে অনুপস্থিত বা পলাতক থাকায় বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর তদন্ত শেষে সম্রাটের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। গত বছরের ১৭ জুলাই এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই সময়েই সম্রাটের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ২ ফেব্রুয়ারি এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়। অভিযোগপত্রে থাকা ২১ জন সাক্ষীর সবাই আদালতের সামনে নিজেদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। বিচারক সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করলেন। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হওয়া সম্রাটের এই সাজা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।