১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ০৬:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই মানবিক প্রকল্পের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কড়াইল, সাত তলা বস্তি ও ভাষানটেকের ১৫ জন নারী গৃহপ্রধানের হাতে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি নারীর কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী না করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই জনগনের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আগামী মাস থেকেই কৃষক ভাইদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের কাজ শুরু হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী এই কার্ডকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি ‘ভরসা ও আস্থার নাম’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নির্বাচিত নারীপ্রধান পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন, যা সরাসরি তাঁদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাবে। পরীক্ষামূলক (পাইলটিং) পর্যায়ের জন্য আগামী জুন পর্যন্ত ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই ভাতা প্রদানে কোনো রাজনৈতিক দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না এবং অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোকে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে ৩৭,৫৬৭টি পরিবারকে এই সুবিধার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্য ও শর্তাবলি

বিষয় বিস্তারিত তথ্য
ভাতার পরিমাণ মাসিক ২,৫০০ টাকা (সরাসরি ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিংয়ে)।
প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ৩৭,৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার (পাইলট পর্যায়)।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য আগামী ৫ বছরে ৪ কোটি নারীপ্রধান পরিবার।
অযোগ্যতা সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী বা গাড়ি/এসি/বিলাসবহুল সম্পদের মালিক।
আর্থিক সীমাবদ্ধতা ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র বা বড় ব্যবসায়িক লাইসেন্স থাকলে অযোগ্য।
অন্যান্য ভাতা নারীপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেলে এটি কার্যকর হলে পূর্বেরটি বাতিল হবে।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই মানবিক প্রকল্পের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কড়াইল, সাত তলা বস্তি ও ভাষানটেকের ১৫ জন নারী গৃহপ্রধানের হাতে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি নারীর কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী না করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই জনগনের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আগামী মাস থেকেই কৃষক ভাইদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের কাজ শুরু হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী এই কার্ডকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি ‘ভরসা ও আস্থার নাম’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নির্বাচিত নারীপ্রধান পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন, যা সরাসরি তাঁদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাবে। পরীক্ষামূলক (পাইলটিং) পর্যায়ের জন্য আগামী জুন পর্যন্ত ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই ভাতা প্রদানে কোনো রাজনৈতিক দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না এবং অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোকে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে ৩৭,৫৬৭টি পরিবারকে এই সুবিধার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্য ও শর্তাবলি

বিষয় বিস্তারিত তথ্য
ভাতার পরিমাণ মাসিক ২,৫০০ টাকা (সরাসরি ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিংয়ে)।
প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ৩৭,৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার (পাইলট পর্যায়)।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য আগামী ৫ বছরে ৪ কোটি নারীপ্রধান পরিবার।
অযোগ্যতা সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী বা গাড়ি/এসি/বিলাসবহুল সম্পদের মালিক।
আর্থিক সীমাবদ্ধতা ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র বা বড় ব্যবসায়িক লাইসেন্স থাকলে অযোগ্য।
অন্যান্য ভাতা নারীপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেলে এটি কার্যকর হলে পূর্বেরটি বাতিল হবে।