এমপি মোশাররফের সনদ জালিয়াতি অভিযোগ মিথ্যা দাবি : নিজের স্বপক্ষে প্রকাশ করলেন সব সার্টিফিকেট
ডিবিএন প্রতিবেদক
- আপডেট সময় ০৮:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৯ বার পড়া হয়েছে
বগুড়া–৪ (নন্দীগ্রাম–কাহালু) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতা মোশাররফ হোসেনের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স (বিএসএস) সনদকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার মো. মাসুদ আলী তার নিজের দাবি করা একটি বিএসএস সনদ ব্যবহার করছেন—এমন অভিযোগ এনে গত বৃহস্পতিবার সিংড়া আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিচারক সারোয়ার জাহান মামলা আমলে নিয়ে নাটোর জেলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এই ঘটনা প্রকাশ পেতেই বিভিন্ন সংবাদ সাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “সনদ জালিয়াতি” শিরোনামে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ “সম্পূর্ণ মিথ্যা”—ফেসবুকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও সব সার্টিফিকেট প্রকাশ করলেন মোশাররফ হোসেন
শনিবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করেন মোশাররফ হোসেন। তিনি নিজের বিএসএস সার্টিফিকেটসহ রেজিস্ট্রেশন কার্ড, অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট, প্রশংসাপত্র, সংশোধনী কাগজসহ সব নথির ছবি প্রকাশ করেন।
তিনি বগুড়া টাইমসের প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন— “সবার উদ্দেশ্যে সার্টিফিকেটের কপির ছবি দিয়েছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত—যে কেউ যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারে। কিন্তু যাচাই ছাড়া কেউ যদি আমার সম্মান ক্ষুন্ন করতে মিথ্যা অপপ্রচার করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
নিজের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান লক্ষ্য করেই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন—মামলা হয়েছে নাটোরে, কিন্তু সাক্ষী হিসেবে উঠে এসেছে কাহালুর কিছু “বিশেষ পক্ষের” ব্যক্তি। যাদের তিনি ‘বট বাহিনী’, ‘বঞ্চিত গোষ্ঠী’ ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি আরও লিখেছেন,“আমার আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা দেখে কিছু লোক দিশেহারা। আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
“জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েই সব প্রশ্নের জবাব”—উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন ফেসবুকে লেখেন, ২৫ বছর আগে বিএসএস পরীক্ষা দেওয়ার পর তিনি চাকরিজীবনে না যাওয়ায় মূল সার্টিফিকেট তুলতে প্রয়োজন হয়নি। তবে অপপ্রচারের জবাব দিতে ২০২৫ সালের ২৮ মে তিনি মূল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন।
তিনি বলেন—“মূল সার্টিফিকেট,মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড, অ্যাডমিট কার্ড,মার্কশিট, প্রশংসাপত্র, নাম সংশোধনের কাগজ, কলেজ প্রিন্সিপালের স্বাক্ষরযুক্ত সংশোধনী সংযুক্ত করেছি এবং বোর্ডে ফি জমাদানের রিসিট দিয়েছি।”
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি লেখেন—“আরও জানার থাকলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েই যাচাই করার চেষ্টা করুন।”
অভিযোগটি আদালতে গৃহীত হওয়ায় নাটোর জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শিগগিরই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে।
অন্যদিকে, মোশাররফ হোসেনের সমর্থকরা এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন।
তথ্য সুত্র:বগুড়া টাইমস
















