০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

গাজায় ঝড়, বন্যা, ঠান্ডায় শিশুসহ ১৪ মৃত্যু ধসে পড়েছে একডজনের বেশি ভবন, উড়ে গেছে ২৭ হাজার তাঁবু

ডিবিএন প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় ১১:২১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

না ঘর, না দুয়ার। গাজার বাস্তুচ্যুতদের একটি বড় অংশ থাকেন নড়বড়ে তাঁবুতে। এ কারণে ঝড় বায়রনের আঘাতে সেখানে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ২৭ হাজারের বেশি তাঁবু উড়ে গেছে। ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত– এমন এক ডজনের বেশি ভবন ধসে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার একদিনে প্রাণ গেছে অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনির। তাদের মধ্যে তিন শিশুও আছে।

চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানায়, গতকাল গাজা সিটিতে তীব্র ঠান্ডায় হাদিল হামদান ও তাইম খাজা নামে দুই শিশু মারা যায়। এর আগে রাতভর ঝড়ের সময় বৃষ্টির পানি তাদের তাঁবুতে ঢুকে পড়ার পর গত বৃহস্পতিবার খান ইউনিসে আট মাস বয়সী রাহাফ আবু জাজার নামের আরেক শিশু মারা গিয়েছিল। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় বন্যা ও তীব্র বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পাঁচজন নিহত হন। আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।গাজা সিটির পশ্চিমে আল-রিমাল এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুতে দেয়াল ধসে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর গাজার আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে ভেঙে পড়া দেয়ালের কারণে আরও একজনের মৃত্যু হয়। গাজাভিত্তিক সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টিপাত ও তীব্র বাতাসে ইসরায়েলের বোমা হামলায় ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কমপক্ষে ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়েছেন; অন্যরা আহত হয়েছেন।

বৃষ্টি, বন্যা ও ধসে পড়া আশ্রয়কেন্দ্রের কারণে আড়াই লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গাজার দেড় লাখ মানুষ তাঁবুতে থাকেন। বাকি সাত লাখের বেশি মানুষের বেশির ভাগই আংশিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে থাকেন। দুই বছর ধরে চালানো ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় উপত্যকার আবাসিক ভবনের প্রায় ৯২ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এ অবস্থায় অবরোধ চলছে; গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না তাঁবু। আলজাজিরা জানায়, গাজা সিটির আশ্রয়শিবিরের তাঁবুগুলো বেশ জরাজীর্ণ। বেশির ভাগই তৈরি করা হয়েছে ত্রাণের ত্রিপল দিয়ে; ব্যবহার করা হয়েছে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার প্লাস্টিকের টুকরো ও পুনর্ব্যবহৃত কম্বল। অনেক তাঁবুর মাঝখান দৃশ্যমানভাবে ঝুলে পড়তে দেখা গেছে। সামান্য বাতাসেই এগুলো কেঁপে ওঠে।
কয়েক মাস আগে বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর পশ্চিম গাজা সিটিতে আশ্রয় নেওয়া হানি জিয়ারা ঝড়ের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘যখন বাতাস শুরু হয়, তখন আমরা সবাই তাঁবুটি যাতে না পড়ে, সে জন্য খুঁটি ধরে রাখি।’ তিনি জানান, গত রাতে প্রবল বৃষ্টিতে তাঁর তাঁবু প্লাবিত হয়। তাঁর সন্তানদের ঠান্ডায় বাইরে থাকতে হয়েছিল। বৃষ্টি ও তীব্র বাতাস থেকে সন্তানদের রক্ষার জন্য তাদের কিছুই করার ছিল না।

ঠান্ডায় নীল হয়ে গিয়েছিল শিশুটি
গাজায় ঠান্ডা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় শিশুমৃত্যুর ঘটনা বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। ঝড় বায়রনের কারণে যেসব শিশু মারা গেছে, তার মধ্যে একজনের বর্ণনা উঠে আসে স্বজনের মুখে। শিশুর দাদা আলজাজিরাকে বলেন, বাড়িতে ইসরায়েলের বোমা হামলার পর তাঁর পরিবার ছাদবিহীন একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তিনি বলেন, বুধবার শিশুটির মাকে চিৎকার করতে শুনলাম– ‘আমার ছেলে নীল হয়ে গেছে!’ তারপর তাকে আল-রান্তিসি হাসপাতালে নেওয়া হলো। তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করছিল না। মস্তিষ্ক কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। এভাবেই সব শেষ হয়ে যায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গাজায় ঝড়, বন্যা, ঠান্ডায় শিশুসহ ১৪ মৃত্যু ধসে পড়েছে একডজনের বেশি ভবন, উড়ে গেছে ২৭ হাজার তাঁবু

আপডেট সময় ১১:২১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

না ঘর, না দুয়ার। গাজার বাস্তুচ্যুতদের একটি বড় অংশ থাকেন নড়বড়ে তাঁবুতে। এ কারণে ঝড় বায়রনের আঘাতে সেখানে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ২৭ হাজারের বেশি তাঁবু উড়ে গেছে। ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত– এমন এক ডজনের বেশি ভবন ধসে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার একদিনে প্রাণ গেছে অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনির। তাদের মধ্যে তিন শিশুও আছে।

চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানায়, গতকাল গাজা সিটিতে তীব্র ঠান্ডায় হাদিল হামদান ও তাইম খাজা নামে দুই শিশু মারা যায়। এর আগে রাতভর ঝড়ের সময় বৃষ্টির পানি তাদের তাঁবুতে ঢুকে পড়ার পর গত বৃহস্পতিবার খান ইউনিসে আট মাস বয়সী রাহাফ আবু জাজার নামের আরেক শিশু মারা গিয়েছিল। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় বন্যা ও তীব্র বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পাঁচজন নিহত হন। আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।গাজা সিটির পশ্চিমে আল-রিমাল এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুতে দেয়াল ধসে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর গাজার আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে ভেঙে পড়া দেয়ালের কারণে আরও একজনের মৃত্যু হয়। গাজাভিত্তিক সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টিপাত ও তীব্র বাতাসে ইসরায়েলের বোমা হামলায় ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কমপক্ষে ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়েছেন; অন্যরা আহত হয়েছেন।

বৃষ্টি, বন্যা ও ধসে পড়া আশ্রয়কেন্দ্রের কারণে আড়াই লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গাজার দেড় লাখ মানুষ তাঁবুতে থাকেন। বাকি সাত লাখের বেশি মানুষের বেশির ভাগই আংশিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে থাকেন। দুই বছর ধরে চালানো ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় উপত্যকার আবাসিক ভবনের প্রায় ৯২ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এ অবস্থায় অবরোধ চলছে; গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না তাঁবু। আলজাজিরা জানায়, গাজা সিটির আশ্রয়শিবিরের তাঁবুগুলো বেশ জরাজীর্ণ। বেশির ভাগই তৈরি করা হয়েছে ত্রাণের ত্রিপল দিয়ে; ব্যবহার করা হয়েছে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার প্লাস্টিকের টুকরো ও পুনর্ব্যবহৃত কম্বল। অনেক তাঁবুর মাঝখান দৃশ্যমানভাবে ঝুলে পড়তে দেখা গেছে। সামান্য বাতাসেই এগুলো কেঁপে ওঠে।
কয়েক মাস আগে বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর পশ্চিম গাজা সিটিতে আশ্রয় নেওয়া হানি জিয়ারা ঝড়ের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘যখন বাতাস শুরু হয়, তখন আমরা সবাই তাঁবুটি যাতে না পড়ে, সে জন্য খুঁটি ধরে রাখি।’ তিনি জানান, গত রাতে প্রবল বৃষ্টিতে তাঁর তাঁবু প্লাবিত হয়। তাঁর সন্তানদের ঠান্ডায় বাইরে থাকতে হয়েছিল। বৃষ্টি ও তীব্র বাতাস থেকে সন্তানদের রক্ষার জন্য তাদের কিছুই করার ছিল না।

ঠান্ডায় নীল হয়ে গিয়েছিল শিশুটি
গাজায় ঠান্ডা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় শিশুমৃত্যুর ঘটনা বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। ঝড় বায়রনের কারণে যেসব শিশু মারা গেছে, তার মধ্যে একজনের বর্ণনা উঠে আসে স্বজনের মুখে। শিশুর দাদা আলজাজিরাকে বলেন, বাড়িতে ইসরায়েলের বোমা হামলার পর তাঁর পরিবার ছাদবিহীন একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তিনি বলেন, বুধবার শিশুটির মাকে চিৎকার করতে শুনলাম– ‘আমার ছেলে নীল হয়ে গেছে!’ তারপর তাকে আল-রান্তিসি হাসপাতালে নেওয়া হলো। তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করছিল না। মস্তিষ্ক কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। এভাবেই সব শেষ হয়ে যায়।